মহানবী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ)-এর অনুপম চরিত্র, মহানুভবতা ও মানবপ্রেম অনুসরণের মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন দরবারে গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারীর সাজ্জাদানশীন হযরত শাহসুফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী।
সোমবার (১৭ আগস্ট) মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া-এর আয়োজনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) কনফারেন্স এবং হযরত শাহসুফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারীর ১৫তম বার্ষিক ওরশ শরীফের প্রথম দিবসের কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ১৭ ও ১৮ আগস্ট দুই দিনব্যাপী এই ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, “মহানবী (ﷺ)-এর পবিত্র জীবন ছিল মানবিক মহানুভবতার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত। তাঁর অনুসারীদের চরিত্রে ভালোবাসা, দয়া, ক্ষমা, ধৈর্য ও বিনয় প্রতিফলিত হওয়া উচিত। নবীপ্রেম কেবল আবেগের বিষয় নয়, মহানবী (ﷺ)-এর আদর্শকে বাস্তব জীবনে ফুটিয়ে তোলার মধ্যেই এর প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বিশ্বের বিদ্বেষ ও সংঘাতময় পরিস্থিতিতে মহানবী (ﷺ)-এর ক্ষমাশীলতা ও সম্প্রীতির শিক্ষা ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। মহানবী (ﷺ)-এর চরিত্রের সৌন্দর্য সমগ্র মানবজাতির জন্য এক অনুপম আদর্শ, যা অনুসরণের মাধ্যমে সমাজে হিংসা-বিদ্বেষের পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় হতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মইনীয়া যুব ফোরামের সাবেক সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মেহবুব-এ মইনুদ্দীন আল-হাসানী এবং বর্তমান সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মাশুক-এ মইনুদ্দীন আল-হাসানী। বিদেশি অতিথি ও প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের সুন্নী ইসলামিক মিশনের প্রেসিডেন্ট আল্লামা পীর শাহ নাবীল আখতার নওয়াজী নকশবন্দী এবং ইসলামিক স্কলার পীরজাদা হযরত মাওলানা বায়েজীদ আশরাফী।
অন্যান্য বক্তারাও মহানবী (ﷺ)-এর জীবনাদর্শ, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধের ওপর আলোকপাত করেন।
বিশেষ নসিহত ও জিকির-আযকার সমৃদ্ধ কর্মসূচির প্রথম দিন শেষে বিশ্বশান্তি, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য কামনা করে আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন প্রধান অতিথি হযরত শাহসুফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী। সমাপনী দিবসেও বিশেষ দোয়া ও আখেরি মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।







