চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে হযরত গাউছুল ওয়ারা শায়খুল ইসলাম শাহসুফি সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর ১৫তম বার্ষিক পবিত্র ওরশ শরীফ আগামী ১৭ ও ১৮ আগস্ট দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে ব্যাপক ধর্মীয় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে গাউছিয়া রহমানিয়া মইনীয়া মনজিল। আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া, হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্ট এবং মইনীয়া যুব ফোরামসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের সমন্বয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
ওরশ উপলক্ষে প্রতিদিন বিশেষ নসিহত, জিকির-আযকার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। সমাপনী দিনে আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করবেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ গাউছিয়া রহমানিয়া মইনীয়া মনজিলের সাজ্জাদানশীন (গদীনশীন পীর), আওলাদে রাসূল (ﷺ), হযরত শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)।
ওরশকে ঘিরে আগত লাখো ভক্ত, আশেক ও মুরিদানের নিরাপত্তা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় মাইজভাণ্ডার গাউছিয়া রহমানিয়া মইনীয়া মনজিলের সেমিনার হলে এক প্রস্তুতিমূলক প্রশাসনিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ফটিকছড়ি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মমিন। প্রধান অতিথি ছিলেন শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের মহাসচিব আলহাজ কাজী মহসিন চৌধুরী, পল্লী বিদ্যুৎ (আজাদী বাজার)-এর ডিজিএম প্রকৌশলী ভজন কুমার বর্মন, নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ওসি আজিজুর রহমান, ফটিকছড়ি থানার এসআই মো. রবিউল ইসলাম, ফটিকছড়ি প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাংবাদিক মোরশেদ মুন্না, ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার পংকজ কুমার বড়ুয়া, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী উচ্ছাস বড়ুয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. মহিউদ্দিন, রোসাংগিরী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহারিয়া চৌধুরী, আলহাজ কাজী শহিদুল্লাহ ও মাওলানা বাকের আনছারীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, “মানবপ্রেম, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির পথই হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.)-এর জীবনদর্শন। তিনি তাঁর সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছেন মানুষকে আল্লাহভীতি, নৈতিকতা, মানবকল্যাণ, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক ভালোবাসার শিক্ষা দিতে। তাঁর শিক্ষা আজও সমাজে শান্তি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার উজ্জ্বল দিশারি।”
তিনি আরও বলেন, “হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.) শিখিয়েছেন—সততা, সহিষ্ণুতা, সহানুভূতি, ধৈর্য, ক্ষমা ও ত্যাগই একজন সত্যিকারের মুমিনের চরিত্রের ভিত্তি। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে এসব মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলে বিভেদ, হিংসা ও বিদ্বেষ দূর হবে এবং সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার সমাজ গড়ে উঠবে।”
তিনি ওরশ শরীফ সফলভাবে আয়োজনের জন্য প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবক, এলাকাবাসী এবং দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্ত-অনুরাগীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. মো. আব্দুল মমিন বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও ওরশ উপলক্ষে আগত ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যানবাহন পার্কিং, যানজট নিয়ন্ত্রণ, সার্বক্ষণিক আইন-শৃঙ্খলা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও জনসেবার বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। মেলায় কোনো ধরনের জুয়া, সার্কাস কিংবা অসামাজিক ও মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সুযোগ থাকবে না।
সভায় জানানো হয়, ওরশ উপলক্ষে আগত ভক্তদের জন্য সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানীয় জল, পরিবেশবান্ধব স্যানিটেশন, প্রয়োজনীয় ওষুধ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এ লক্ষ্যে পল্লী বিদ্যুৎ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় সম্পন্ন হয়েছে।
সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, ভক্ত-আশেকান এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন, আয়োজক কমিটি ও সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারীর (ক.) ১৫তম বার্ষিক পবিত্র ওরশ শরীফ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশ থেকে আগত লাখো ভক্ত-অনুরাগীর জন্য একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সেবামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।







