লাখো আশেক-ভক্তের ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনি এবং মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের অন্যতম আধ্যাত্মিক সাধক হযরত গাউসুল আজম শাহসুফি সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারী আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারীর (ক.) ১৬৪তম খোশরোজ শরিফ সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়। এর মধ্যে ছিল খতমে কোরআন, খতমে গাউছিয়া শরিফ, রওজা মোবারকে গিলাফ প্রদান, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ছেমা-কাওয়ালী, জীবনী আলোচনা, ওয়াজ-মিলাদ মাহফিল ও তবারক বিতরণ।
খোশরোজ শরিফ উপলক্ষে মাইজভাণ্ডার রহমানিয়া মইনীয়া দরসে নিজামী মাদ্রাসা মাঠে এক বিশাল মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাবাভাণ্ডারী (ক.)-এর প্রপৌত্র, আওলাদে রাসুল (দ.), মাইজভাণ্ডার গাউছিয়া রহমানিয়া মইনীয়া মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন, আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)-এর চেয়ারম্যান হযরত শাহসুফি শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী (মা.জি.আ.)।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “কঠোর রিয়াজত, ইবাদত-বন্দেগি ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে বাবাভাণ্ডারী (ক.) আধ্যাত্মিকতার উচ্চমার্গে উপনীত হন। তাঁর জীবনাদর্শ মানুষকে আল্লাহর প্রেম, আত্মসংযম, বিনয় ও সৃষ্টির সেবায় উদ্বুদ্ধ করে।”
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বিশ্বে হিংসা-প্রতিহিংসা, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, ক্ষমতার লোভ ও যুদ্ধবিগ্রহ মানবসভ্যতাকে বিপর্যস্ত করছে। এ পরিস্থিতিতে বাবাভাণ্ডারীর প্রেম, শান্তি, সহনশীলতা ও মানবকল্যাণের আদর্শ অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।”
ধর্মীয় সাধনার মূল তাৎপর্য তুলে ধরে সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, ধর্মীয় সাধনার প্রকৃত সার্থকতা মানুষের কল্যাণে কাজ করা, অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে ন্যায়বিচার ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার মধ্যে নিহিত। মতপার্থক্য যেন কখনো শত্রুতায় পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমা, বিদ্বেষের পরিবর্তে ভালোবাসা এবং সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ ও শান্তিকে প্রাধান্য দিতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের মর্যাদা রক্ষা এবং বিশ্বমানবতার কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদা সৈয়দ মেহেবুব এ মইনুদ্দিন ও শাহজাদা সৈয়দ মাশুক মইনুদ্দীন।
আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন বিএসপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজী মহসীন চৌধুরী, মহাসচিব অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী মানিক, ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া, মাওলানা বাকের আনসারী, মাওলানা নাজের হোসাইন, মাওলানা খাজা বাহা উদ্দিন ও হাফেজ মাওলানা কেরামত আলী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ, জাতি ও বিশ্বমানবতার শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন হযরত শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী। এ সময় লাখো আশেক-ভক্তের ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফ এলাকা।







