নেদারল্যান্ডসের বড় শহরগুলোর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৯০ শতাংশের আশপাশে রয়েছে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির দোকান। এসব দোকান থেকে সহজেই স্ন্যাকস, মিষ্টি ও কোমল পানীয় কিনতে পারে শিক্ষার্থীরা। পকেটের টাকা খরচ করে খাবার কেনার ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের বড় একটি অংশ স্বাস্থ্যকর খাবারের বদলে অস্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেয়। ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনএল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
নেদারল্যান্ডসের পুষ্টিবিষয়ক সংস্থা ভোডিংসসেন্ট্রামের লিসবেথ ভেলেমা দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম এনওএসকে বলেন, বিপুলসংখ্যক স্কুলের আশপাশে অস্বাস্থ্যকর খাবারের সহজলভ্যতা উদ্বেগজনক।
তার মতে, চিনিযুক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবারের তুলনায় স্বাস্থ্যকর খাবার শিশুদের কাছে কম আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের কেনা খাবারের চার ভাগের তিন ভাগেরও বেশি অস্বাস্থ্যকর। স্কুলের বিরতিতে শিক্ষার্থীরা সহজেই সসেজ রোল, মিষ্টি, চিপস ও কোমল পানীয় কিনতে পারে।
স্কুলের আশপাশে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির ক্ষেত্রে বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে উদ্যোগী স্থানীয় সরকারগুলো। তাদের মতে, স্কুলের আশপাশে এ ধরনের খাবার বিক্রির ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সুপারমার্কেটগুলোতে শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুতে আমস্টারডাম ইউএমসির এক গবেষণায়ও একই ধরনের চিত্র উঠে আসে। গবেষণায় দেখা যায়, মাধ্যমিক ও বৃত্তিমূলক বিদ্যালয়ের প্রায় ৯৪ শতাংশের আশপাশে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির দোকান রয়েছে।
এর আগে ১৪টি পৌরসভা স্কুলের আশপাশে নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানায়।
আলমেরে, আমস্টারডাম, ডেন বশ, লেইডেন, রটারডাম, উট্রেখট, দ্য হেগ, ব্রেদা, গ্রোনিঙ্গেন ও টিলবার্গ-এই ১০টি শহরের খাবারের দোকানগুলো গবেষণার আওতায় ছিল। গবেষণায় সব শহরেই স্বাস্থ্যকর খাবারের তুলনায় অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রাধান্য দেখা গেছে।







