নির্বাচনী ইশতেহার-২০২৬ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিল্প কারখানায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে বগুড়ায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) বিসিক জেলা কার্যালয়, বগুড়ায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
বিসিক আঞ্চলিক কার্যালয়, রাজশাহীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন বিসিকের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিসিক রাজশাহীর আঞ্চলিক পরিচালক জাফর বায়েজীদ এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) লিমিটেডের বগুড়া সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)-এর জোনাল ম্যানেজার (নর্থ) আবু ফারাহ মো. আসাদুজ্জামান।
কর্মশালায় বিসিক রাজশাহী অঞ্চলের আওতাধীন বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও জয়পুরহাট জেলার বিসিক জেলা কার্যালয়ের প্রধান, শিল্পনগরী কর্মকর্তা এবং নির্বাচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর, সোনালী ব্যাংক এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে শিল্প কারখানার ছাদে সোলার রুফটপ স্থাপন, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বক্তারা বলেন, শিল্প খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো হলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জ্বালানি ব্যয় কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই শিল্পায়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কর্মশালায় বিদ্যমান বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংযুক্ত করার সুযোগ নিয়েও আলোচনা করা হয়। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সোলার রুফটপসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামো স্থাপনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য কারিগরি ও আর্থিক বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি এ খাতে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সহযোগী সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।
বিসিক রাজশাহীর আঞ্চলিক পরিচালক জাফর বায়েজীদ বলেন, ‘শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যমান বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থাকে সমন্বিত করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে শিল্প কারখানার ছাদে সোলার রুফটপ স্থাপনের মাধ্যমে নিজেদের বিদ্যুৎ চাহিদার একটি অংশ পূরণ করা সম্ভব। এতে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ব্যয়ও কমানো যেতে পারে।’
তিনি আরো বলেন, ‘তবে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামো স্থাপনের ক্ষেত্রে কারিগরি সক্ষমতা, প্রাথমিক বিনিয়োগ, বিদ্যমান বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিল্প উদ্যোক্তাদের সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া জরুরি।’
আলোচনায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে উদ্যোক্তাদের এ বিষয়ে আরও আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। শিল্প কারখানায় সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্প উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট সহযোগী সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, শিল্প খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার শুধু উৎপাদন ব্যয় কমানোর একটি উপায় নয়; এটি পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের পথও তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুতের বিকল্প উৎস তৈরি এবং প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ রয়েছে।
কর্মশালার মাধ্যমে বিসিকের আওতাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক ও প্রতিনিধিদের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্প খাতে এর ব্যবহার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।







