জৈবিক উপায়ে নিরাপদ চুইঝাল চাষে প্রথমেই তপন কুমার বর্দ্ধনের অনন্য সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি শুধু চুইঝালই নয় নিজের বাড়ির পালনে গড়ে তুলেছেন রকমারি নানা বৃক্ষলতা ও দুর্লভ প্রজাতির উদ্যান। নিজেকে ঠাঁই করেছেন একজন বৃক্ষ প্রেমিকের তালিকায়। অর্জন করেছে খ্যাতি যশ। এইবারই প্রথম তিনি হর্টিকালচার সেন্টার থেকে মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় চুইঝাল চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টার থেকে প্রযুক্তি নিয়ে চুইঝাল চাষ করা কৃষকের নাম তপন কুমার বর্দ্ধন (৪৫)। তিনি ধনবাড়ি উপজেলার খোপাখালী ইউনিয়নের হাজরাবাড়ি গ্রামে। তার বাবার নাম বীরেন্দ্রচন্দ্র বর্দ্ধন।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি হর্টিকালচার সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, কৃষক তাপস কুমার বর্দ্ধন পূর্বে কখনো চুইঝাল চাষ করেননি। এই অঞ্চলে চুইঝাল একটি নতুন ও অপরিচিত মসলা ফসল হওয়ায় এ বিষয়ে কৃষকের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে ‘মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের’ সহায়তায় তিনি ১০ শতাংশ জমিতে চুইঝাল চাষ শুরু করেন।
প্রকল্প থেকে তাকে উন্নতমানের চারা, জৈব ও রাসায়নিক সার, বালাইনাশকসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা হয়, ফলে প্রাথমিক উৎপাদন ব্যয় তার বহন করতে হয়নি। বর্তমানে গাছগুলো সুস্থভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এখনো বাণিজ্যিকভাবে ফসল সংগ্রহ শুরু হয়নি।
সূত্রটি আরও জানায়, কৃষক প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে এবং আধুনিক চাষাবাদ কৌশল সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে। ধনবাড়ি হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদদের নিয়মিত পরামর্শ ও মাঠপর্যায়ের তদারকির ফলে তিনি সফলভাবে চাষ পরিচালনা করে যাচ্ছে।
চুইঝাল চাষের দ্বিতীয় বছরে এসে কৃষক তপন কুমার কাটিং পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করে প্রায় ৪০০ চারা বিক্রি করেছেন। প্রতি চারা ৫০ টাকা দামে বিক্রি করে প্রায় ২০ হাজার টাকা পেয়েছে বলে জানান কৃষক।
কৃষক তপন কুমার বর্দ্ধন (৪৫) জানান, তিনি এর আগে চুইঝাল চাষ করেননি। হর্টিকালচার সেন্টারের এক প্রকল্পের আওতায় ১০ শতাংশ জমিতে দুই বছর এ চাষ করে শুরু করে। ফলন শুরু হয়েছে। চারাও বিক্রি করে যাচ্ছে। এতে তার ফসলের বৈচিত্র্য বেড়েছে, নতুন ফসলের জাতও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তার মতে, এ ফসল চাষে তার ফসলের বৈচিত্র্য বেড়েছে। নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে। সামনে আরও চাষ বৃদ্ধির কথা জানান এ কৃষক। চুইঝাল চাষ তার কাছে ভালো লাগে। সকাল-বিকাল বাগানে ঘুরতে তার খুব ভালো লাগে বলে জানান।
আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নে চুইঝাল একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় মসলা ফসল হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করে যাচ্ছে। তাপস কুমার বর্দ্ধন এই ফসল চাষের মাধ্যমে নিজেকে একজন অগ্রগামী ও উদ্ভাবনী কৃষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে যাচ্ছে বলে হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্ভিদতত্ত্ববিদ জানান।
তার বাগানের গাছগুলো বর্তমানে আশ্রয় গাছে দৃঢ়ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফসল সংগ্রহ শুরু না হলেও চারা বিক্রির মাধ্যমে ইতোমধ্যে আয় শুরু হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক, সৌখিন বাগানি এবং আশপাশের নার্সারিগুলো তার কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করছে এবং নতুন করে চারার অর্ডার দিচ্ছে। এতে এলাকায় নতুন ফসল চাষে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। কৃষক অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে কৃষক আশাবাদী।
প্রকল্পের সহায়তায় এবং ধনবাড়ি হর্টিকালচার সেন্টারের নিবিড় তত্ত্বাবধান, সময়োপযোগী পরামর্শ এবং দক্ষ ফার্ম লেবারের সহায়তায় এই নতুন ফসলটি টাঙ্গাইলে সফলভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ধনবাড়ি হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ মো. রাসেল পারভেজ তমাল জানান, চুইঝাল ফসলটি এ অঞ্চলে পূর্বে চাষ হতো না—এই প্রকল্পের মাধ্যমে তা সফলভাবে সম্প্রসারণ সম্ভব হয়েছে, যা মসলা উৎপাদনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন হচ্ছে। এর ফলে চুইঝালের বাণিজ্যিক উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।চারা উৎপাদন একটি লাভজনক খাতে পরিণত হবে। কৃষকের আয় বহুমুখী হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে একটি নতুন মসলা ভ্যালু চেইন তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।
প্রকল্পের পরিচালক রাসেল আহমেদ বলেন, ‘কৃষকের বহুমুখী আয় বৃদ্ধি করতে মসলাটির বাণিজ্যিক উৎপাদন বৃদ্ধি করতে আমরা কাজ করছি। কৃষক যাতে ভবিষ্যতে চুইঝালের চারা উৎপাদন একটি লাভজনক খাতে পরিণত করতে পারে সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।’








