মেহেরপুরে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। প্রায় আধা ঘণ্টার দমকা হাওয়ায় ভেঙে পড়েছে বহু গাছপালা, কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি এবং উপড়ে গেছে বিদ্যুতের খুঁটি। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া এই ঝড় জেলার তিনটি উপজেলাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেক কাঁচা-পাকা ঘরের ছাউনি উড়ে যায় এবং গাছ পড়ে একাধিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক আবহাওয়া কর্মকর্তা রঞ্জিত সাহা বলছেন, `শনিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১১টার টার মধ্যে জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়। এমন ঝড় আরো কয়েকটি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।’
জোড়পুকুরিয়া গ্রামের চা দোকানি জিল্লুর শেখ বলেন, আধা ঘণ্টার ঝড়ে তার একমাত্র সম্বল দোকানটি উড়ে গেছে। একই গ্রামে অন্তত ২০-২৫টি ঘর ভেঙে পড়েছে এবং অনেক ঘরের চাল উড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ঝড়ে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন আম চাষিরা। ঝড়ে বাগানজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে কাঁচা ও আধাপাকা আম। আম চাষি ফরিদ হোসেন বলেন, তিনি তিন লাখ টাকায় বাগান লিজ নিয়ে ভালো লাভের আশা করেছিলেন। কিন্তু ঝড়ে তার বাগানের প্রায় অর্ধেক আম নষ্ট হয়ে গেছে।
জোড়পুকুরিয়া গ্রামের চা দোকানি জিল্লুর শেখ বলেন, “আধা ঘণ্টার ঝড়ে আমার একমাত্র সম্বল দোকানটি উড়ে গেছে। এ ছাড়া এ গ্রামের অন্তত ২০ থেকে ২৫টি ঘর ভেঙে গেছে। উড়ে গেছে অনেকের ঘরের চাল।
চেংগাড়া গ্রামের আমচাষি রহিম বলেন, `আমার তিন বিঘা জমিতে আম বাগান আছে। গতকালের কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় ৩০-৩৫ ভাগ আমের গুটি ঝরে পড়েছে। শুধু আমি না, এলাকার সব আম চাষি এবং বাগান মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
এছাড়া মাঠের ভুট্টা ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ায় অনেক ভুট্টা গাছ নুয়ে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
ঝড়ের কারণে জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। টানা প্রায় ১২ ঘণ্টা অন্ধকারে থাকে পুরো মেহেরপুর।
রোববার সকালে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ঝড়ের তাণ্ডবে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া ও গাংনী-হাটবোয়ালীয়া সড়কে ভেঙে পড়ে থাকা বিভিন্ন গাছের ডালপালা সরানোর কাজ করছেন স্থানীয় লোকজন এবং সড়ক বিভাগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (ডিডি) সঞ্জীব মৃধা বলেন, চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে প্রায় ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে আমবাগানগুলোর অধিকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে কিছুদিন ধরে বৃষ্টিপাত না হওয়াতে আমের গুটি এবং বোটাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘শনিবার রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে জেলায় ৬০৯ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ভুট্টা, আম, লিচু ও বিভিন্ন সবজি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ শুরু করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের লোকজন।’
মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার স্বদেশ কুমার জানান, ঝড়ে বিদ্যুতের ১৫টি খুঁটি উপড়ে গেছে, ১৬টি হেলে পড়েছে, ১৪টি ক্রস আর্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৩৫০টি মিটার তার নষ্ট এবং ৫০টি ছিঁড়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন।








