সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতে এক কলেজছাত্রসহ পাঁচ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, রংপুরে মিঠাপুকুরে পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে দুই জনের প্রাণহানি, আহত ৯ ওহবিগঞ্জে হাওরে মাছ ধরার সময় এক জেলের প্রাণহানি।
শনিবার বিভিন্ন সময় এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। সুনামগঞ্জের দুপুরে হাওরে ধান কাটার সময় এ বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তিরা হলেন-তাহিরপুর উপজেলার আবুল কালাম (২৫), জামালগঞ্জ উপজেলার নাজমুল হোসেন (২৬), ধর্মপাশা উপজেলার হাবিবুর রহমান (২৪) ও রহমত উল্লাহ (১৩) এবং দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ দুপুরে কৃষকেরা হাওরে ধান কাটছিলেন। এ সময় হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে বজ্রপাতে আবুল কালাম নামের এক কৃষক গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
একই সময়ে জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নাজমুল হোসেন নামের এক কৃষক নিহত হন। তিনি উপজেলার চানপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। জামালগঞ্জ থানার ওসি বন্দে আলী জানান, এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
ধর্মপাশা উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় হাবিবুর রহমান ও রহমত উল্লাহ নামের দুই কৃষকের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে হাবিবুর রহমান পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রহমত উল্লাহ জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামের বাসিন্দা। ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যাহ বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
এ ছাড়া দিরাই উপজেলার কালিয়াগোটা (আতরার) হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে কৃষক লিটন মিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছ।
হাওরে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে জেলের প্রাণহানি:
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় হাওরে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন (৪০) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে উপজেলার বিবিয়ানা নদীর তীরবর্তী মমিনা হাওরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুনাম উদ্দিন পূর্ব বড় ভাকৈর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের সুন্দর আলী পীরের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বৃষ্টির মধ্যে মমিনা হাওরে মাছ ধরছিলেন সুনাম উদ্দিন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হাওর এলাকায় হঠাৎ এই বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মিঠাপুকুরে পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ২ জনের প্রাণহানি, আহত ৯:
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় পুকুরে মাছ ধরা ও গোসল করার সময় বজ্রপাতে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চার শিশুসহ আরও নয়জন আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুর সোয়া একটার দিকে উপজেলার বড় হজরতপুর ইউনিয়নের সখিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন-সখিপুর গ্রামের তালেব উদ্দিন (৬০) ও মিলন মিয়া (৩৫)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার দুপুরে মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হয়। ওই সময় তালেব উদ্দিন ও মিলন মিয়া গ্রামের একটি পুকুরে মাছ ধরা ও গোসল করতে নামেন। হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এ সময় পুকুরপাড়ে ও আশপাশে থাকা চার শিশুসহ আরও নয়জন আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।
বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত মিলনের চাচাতো ভাই মোস্তফা বলেন, ‘মিলন পুকুরে মাছ ধরতে নেমেছিল। তখন মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে বিকট শব্দে বজ্রপাত হয়। পুকুরেই তার মৃত্যু হয়। পরে আমরা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসি।’
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিক জানান, বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে খোঁজ নিয়েছে। স্বজনেরা মরদেহ উদ্ধার করে দাফনের ব্যবস্থা করছেন। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার এই ভরা মৌসুমে বজ্রপাতে এমন প্রাণহানির ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। উত্তরাঞ্চলের মিঠাপুকুর এলাকায়ও একই অবস্থা বিরাজ করছে।








