জলজ বাস্তুতন্ত্র, প্রকৃতি ও পরিবেশের নানা বাস্তবতা আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরতে ঢাকায় শুরু হয়েছে ‘ওয়েভস অব লাইফ: ফটোগ্রাফি কম্পিটিশন এন্ড এক্সিবেশন’ । আজ রোববার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা, প্রদর্শনী হল-২-এ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। প্রদর্শনীটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে ইয়ুথ ফর ওশান, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এবং মিশন গ্রিন বাংলাদেশ।
উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ-এর সমন্বয়ক ও ইয়ুথ ফর ওশান’র মেন্টর ও উপদেষ্টা শরীফ জামিল; সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (ক্যাপ্স)-এর চেয়ারম্যান এবং স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার; ‘সি টু সামিট’ অভিযানের এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী ও পরিবেশকর্মী ইকরামুল হাসান শাকিল এবং জলবায়ুবিষয়ক সাংবাদিক মাহমুদ রাকিব, সমুদ্র বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষক, হামবোল্ট ইউনিভার্সিটি অফ বার্লিন, জার্মানী – মফিজ রহমান, পরিবেশ গবেষক ও বন্যপ্রানী সংরক্ষণে জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত আবু সাঈদ, গাজী আনোয়ার, নির্বাহী পরিচালক, সেভ আওয়ার সী এবং মিশন গ্রিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক, আহসান রনি। এ ছাড়া প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী আলোকচিত্রী ও পরিবেশসচেতন ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
‘ওয়েভস অব লাইফ’ আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে নদী, জলজ পরিবেশ, প্রকৃতির বৈচিত্র্য এবং পানিনির্ভর মানুষের জীবন ও জীবিকার বিভিন্ন দিক দৃশ্যমান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রের শক্তিশালী ভাষায় পরিবেশগত সংকট, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং জলজ বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
শরীফ জামিল বলেন, আমরা জানিনা আমাদের সমুদ্রসীমায় কী সম্পদ, সম্ভাবনা ও সমস্যা রয়েছে। দেশের উপকূলে চলমান বেপরোয়া শিল্পায়নে ও সারাদেশের প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য আমাদের সমুদ্রকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে তয জানা এবং জানানোর পাশাপাশি আমাদের সমুদ্র রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে এই আয়োজন। পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের হাত থেকে এই পৃথিবীকে বাঁচাতে আমি সবাইকে এই প্রদর্শনীতে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।
অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, যখনই আমরা প্রকৃতিকে ভালোবাসতে শিখি, তখনই তাকে রক্ষা করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিই। আমাদের উপকূল ও সমুদ্রকে দূষণমুক্ত রাখা শুধু আমাদের দায়িত্ব নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও জীবন্ত প্রকৃতি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার।
মাহমুদ রাকিব বলেন, সাগর বাঁচাতে হলে শুধু সাগরপাড়ের মানুষ নয়, শহরের মানুষকেও সচেতন হতে হবে। কারণ শহরের রাস্তাঘাটে, ফুটপাতে মানুষ যে ময়লা আবর্জনা ও প্লাস্টিক সামগ্রী ফেলছে, চুড়ান্ত পর্যায়ে তা গিয়ে সাগরের পানিতেই মিশছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামুদ্রিক মাছ থেকে শুরু করে পুরো পরিবেশের উপর। একই ভাবে যাত্রীবাহী ও মালবাহী নৌ যান প্রতিনিয়ত হাজার হাজার ময়লা আবর্জনা নদীতে ফেলা হচ্ছে। সেসব গিয়ে চুড়ান্তভাবে সাগরকে দূষণ করছে। যার প্রভাব পড়ছে পুরো পরিবেশ ও অক্সিজেনের ওপর। তাই টেকসইভাবে সাগরকে রক্ষা করতে হলে সাধারণ জনগণকে যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।
আয়োজকদের মতে, আলোকচিত্র কেবল প্রকৃতির সৌন্দর্য তুলে ধরার মাধ্যম নয়; বরং পরিবেশগত পরিবর্তন, দূষণ ও জলবায়ু সংকটের বাস্তবতা মানুষের সামনে তুলে ধরে সচেতনতা তৈরি এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর কার্যকর মাধ্যম।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় আয়োজিত ১৮ থেকে ২২ই অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রতিযোগীতা ও প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীরা অংশগ্রহণকারী আলোকচিত্রীদের কাজের মধ্য দিয়ে জলজ পরিবেশ ও প্রকৃতির নানা গল্প দেখার সুযোগ পাবেন।







