
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) ‘হিউমি কিং’ নিয়ে প্রকাশিত একটি ভুল প্রতিবেদন প্রত্যাহার ও সংশোধন করেছে। এর ফলে মিমপেক্স এগ্রোকেমিক্যালস লিমিটেড বাজারজাত করা হিউমিক অ্যাসিডভিত্তিক উদ্ভিদ বৃদ্ধিবর্ধক (পিজিআর) পণ্যটি নিয়ে কৃষক, কৃষি উপকরণ ব্যবসায়ী, ডিলার ও পরিবেশকদের মধ্যে সাম্প্রতিক বিভ্রান্তি ও উদ্বেগের অবসান ঘটেছে।
সরকারি নিবন্ধিত পিজিআর ‘হিউমি কিং’-এর নিবন্ধন নম্বর এস-২৩৮২। পণ্যটির উপাদান ও মান নিয়ে তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর এ বিতর্কের সূত্রপাত হয়। পরে জানা যায়, ডিএই প্রকাশিত একটি পরীক্ষাগার প্রতিবেদনের ভুল থেকেই এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদনটি সংশোধন করে।
নাটোরের লালপুর উপজেলা কৃষি কার্যালয় পণ্যটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠায়। পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, নমুনাটিতে পটাশিয়ামের পরিমাণ পাওয়া যায় শূন্য দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।
তবে ৯ আগস্ট ডিএইর ফিল্ড সার্ভিসেস উইং থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ৫২ নম্বর ক্রমিকে থাকা ফলাফলটিকে ভুলভাবে পণ্যটির হিউমিক অ্যাসিডের পরিমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রকৃতপক্ষে ওই সংখ্যাটি ছিল নমুনাটিতে থাকা পটাশিয়ামের পরিমাণ।
এই প্রতিবেদনের ভুল তথ্য হিউমি কিংয়ের উপাদান ও মান নিয়ে ব্যাপক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে। এর ফলে কৃষি উপকরণ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর ডিএই সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেয়। ১১ আগস্ট অধিদপ্তরের ফিল্ড সার্ভিসেস উইংয়ের পরিচালক স্বাক্ষরিত একটি সংশোধিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। আগের প্রতিবেদনের কারণে যাতে আর কোনো বিভ্রান্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে সংশোধিত নথিটিও দেশের বিভিন্ন কৃষি কার্যালয়ে লিখিতভাবে পাঠানো হয়।
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত ডিএইর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পরীক্ষাগারে প্রতিবেদন তৈরির সময়ই এই অসামঞ্জস্যের সৃষ্টি হয়েছিল। পরে সেটিই প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভুলভাবে প্রতিফলিত হয়।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কীটনাশক ও উদ্ভিদ বৃদ্ধিবর্ধক মৌলিকভাবে কৃষি উপকরণের দুটি ভিন্ন শ্রেণি এবং এগুলো পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। ডিএইর প্ল্যান্ট প্রোটেকশন উইং কীটনাশকের নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে রয়েছে। অন্যদিকে উদ্ভিদ বৃদ্ধিবর্ধক পণ্য ফিল্ড সার্ভিসেস উইংয়ের আওতাধীন।
সংশোধিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলেও কৃষি উপকরণ খাতের সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, আগের ভুল তথ্য এরই মধ্যে বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে এবং কৃষক, ডিলার ও পরিবেশকদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, কৃষি উপকরণ একটি সংবেদনশীল বিষয়। তাই সরকারি তথ্য ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন—উভয় ক্ষেত্রেই সঠিক, হালনাগাদ ও যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন করা প্রয়োজন। তাদের সতর্কতা, তথ্য প্রচারে ভুল হলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত এবং আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনাও থাকে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মাটির স্বাস্থ্য বজায় রাখার গুরুত্বও তুলে ধরেছেন। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত পরিমাণে রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে মাটির জৈব পদার্থের পরিমাণ কমে যেতে পারে এবং মাটির জৈবিক কার্যক্রমও হ্রাস পেতে পারে। হিউমিক অ্যাসিডভিত্তিক পণ্য সাধারণত মাটির গঠন উন্নত করতে এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পণ্য মাটির গঠন, পানি ধারণক্ষমতা ও বায়ু চলাচলের সক্ষমতা উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে শিকড়ের বৃদ্ধি এবং মাটিতে উপকারী অণুজীবের কার্যক্রমও সহায়তা পেতে পারে।
এই ঘটনা কৃষি উপকরণসংক্রান্ত তথ্য প্রতিবেদন ও প্রচারের ক্ষেত্রে নির্ভুলতা, যাচাই এবং দ্রুত সংশোধনের গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরীক্ষাগারের ফলাফল যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা এবং কোনো ভুল হলে দ্রুত তা সংশোধন করা কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সামগ্রিক কৃষি খাতকে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি ও আর্থিক ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।







