মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক বা পেস্টিসাইড ব্যবহারের ফলে কৃষকদের মধ্যে ক্যানসারসহ নানা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শারীরিক জটিলতা বাড়ছে। তাই পেস্টিসাইডের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
তিনি বলেন, ‘মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক বা পেস্টিসাইড ব্যবহারের ফলে কৃষকদের মধ্যে ক্যানসারসহ নানা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শারীরিক জটিলতা বাড়ছে। তাই পেস্টিসাইডের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সভায় মন্ত্রী বক্তব্য রাখছিলেন বলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক বা জৈব সার সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে মাটি, পরিবেশ, পানি ও মাছ নিরাপদ থাকবে।’
মাটিতে ভারি ধাতুর উপস্থিতি বাড়ছে সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, ‘ভূ-গর্ভস্থ পানি, সার কিংবা পেস্টিসাইড ব্যবহারের কারণে মাটিতে ভারি ধাতুর মাত্রা বাড়ছে কি না, তা গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে।’
বিএআরসির গভর্নিং বডির সভায় যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে তা নিয়মিতভাবে অনুসরণ ও নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
সেই সঙ্গে জাতীয় নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে গবেষকদের মেধা ও জ্ঞানকে জাতির স্বার্থে কাজে লাগানোর কথাও বলেন আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।
এছাড়া, ফসল উৎপাদন-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ও পরামর্শ কৃষকসহ অন্যান্য উপকারভোগীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘খামারি’ মোবাইল অ্যাপকে আরও জনপ্রিয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গবেষণার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ভালো কাজ করছে। দেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে এসব প্রতিষ্ঠানের অবদান অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
তিনি আরোও বলেন,‘সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানও নানা ধরনের উদ্ভাবন করছে। এসব উদ্ভাবন কীভাবে জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।’
বিএআরসির সম্মেলন কক্ষে সংস্থার গভর্নিং বডির ষষ্ঠ সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা, পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।







