উজানে ও দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার কিছু এলাকায় তিস্তার পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নদীসংলগ্ন চর, নিম্নাঞ্চল ও তীরবর্তী এলাকার কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। ফলে এসব এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রকাশিত ‘বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাস’ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের পর্যবেক্ষণাধীন নদ-নদীর মধ্যে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি বেড়েছে। একই সময়ে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কমেছে। তবে সামনের তিন দিন তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে পাউবো।
বিশেষ করে তিস্তার পানি বৃদ্ধির কারণে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এসব এলাকার অনেক স্থানে নদীর পানি বাড়লে চর ও নিচু জমিতে পানি ঢোকার আশঙ্কা থাকে। এতে স্থানীয়ভাবে যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষিজমি ও বসতবাড়িতে সাময়িক দুর্ভোগ তৈরি হতে পারে।
উজানে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস:
পাউবোর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের সিলেট, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এসব বিভাগের তৎসংলগ্ন উজানেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উজানে বৃষ্টির পানি নেমে এলে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এদিকে ঝাড়খণ্ড ও তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে প্রথমে সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং পরে লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এই আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
চট্টগ্রাম বিভাগের নদীতেও পানি বাড়তে পারে:
চট্টগ্রাম বিভাগের নদ-নদীর অবস্থাও পর্যবেক্ষণে রেখেছে পাউবো। গত ২৪ ঘণ্টায় সাঙ্গু নদীর পানি বেড়েছে। তবে একই সময়ে গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমেছে। আগামী তিন দিন এসব নদীর পানি বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রাম বিভাগের নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলেও স্থানীয়ভাবে পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি একসঙ্গে বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে কোনো নদীর পানি কতটা বাড়বে এবং তা বিপৎসীমা অতিক্রম করবে কি না, তা নির্ভর করবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও উজানের পানিপ্রবাহের ওপর।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনায় ‘স্বস্তি’:
উত্তরাঞ্চলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ নদী ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী দুই দিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর পরবর্তী তিন দিন নদীর পানি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে এই সময়ে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায় তীব্র পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম।
অন্যদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী দুই দিন এ অবস্থা অব্যাহত থাকার পর পরবর্তী তিন দিন পানি বাড়তে পারে। তবে পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই পানি বিপৎসীমার নিচেই থাকতে পারে। ফলে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় আপাতত বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা নেই।
সুরমা-কুশিয়ারায় কমছে:
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদ-নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী এক দিন পানি আরও কমতে পারে। এরপর পরবর্তী দুই দিন নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তবে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখার প্রয়োজন রয়েছে। উজানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়লে এই অঞ্চলেও পানির পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে।
সব মিলিয়ে দেশের বড় নদ-নদীগুলোর মধ্যে তিস্তার পানি বৃদ্ধির বিষয়টি এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তার পানি সতর্কসীমায় পৌঁছালে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। তাই নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষকে পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতি নজরে রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।







