টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার কারণে কৃষিপণ্য সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব দেখা যাচ্ছে রাজধানীর খুচরা বাজারে। বিশেষকরে শাক-সবজির পাশাপাশি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। সরবরাহ কমে যাওয়ায় কাঁচামরিচের দাম এক মাসের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের কেজি ১২০-১৩০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শুক্রাবাদ, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, মিরপুর ও মালিবাগের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, নতুন কাঁচামরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা, আর কিছু বাজারে পুরোনো বা সংরক্ষিত মরিচের দাম উঠেছে ৩২০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা জানান, টানা বৃষ্টিতে মরিচক্ষেতে উৎপাদন কমেছে। অনেক এলাকায় ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নতুন মরিচ বাজারে আসছে কম। আবার বৃষ্টির কারণে কাঁচামরিচ দ্রুত পচে যাওয়ায় পরিবহন ও সংরক্ষণেও বাড়ছে ক্ষতি। ফলে পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
রাজধানীর শুক্রাবাদ এলাকার সবজি বিক্রেতা আনোয়ার বলেন, “এক সপ্তাহের মধ্যে শুধু কাঁচামরিচ নয়, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। আমরা বেশি দামে কিনে আনছি, তাই কম দামে বিক্রি করার সুযোগ নেই। অনেক ক্রেতাই দাম শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।”
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টি কমে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাজারে দাম কিছুটা কমতে পারে।
শুধু কাঁচামরিচ নয়, বাজারে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি, লাউ, বেগুন, করলা, ঢেঁড়স ও পটলের দামও আগের তুলনায় বেড়েছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
বাজার করতে আসা গৃহিণী তামান্না আক্তার বলেন, ‘এখন কাঁচামরিচ ছাড়া রান্না করাই কঠিন। কিন্তু দাম এত বেশি যে প্রয়োজনের চেয়ে কম কিনতে হচ্ছে। সবজির দামও অনেক বেড়েছে। অল্প কয়েকটি সবজি কিনতেই কয়েকশ টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে।’
এক সবজি বিক্রেতা জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে শুধু সবজি না অনেক কিছুরই দাম বেড়েছে। এ নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে ঝগড়াও হচ্ছে। ওই বিক্রেতার দাবি, তাদের বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। এখন কীভাবে কমে বিক্রি করবেন- এ প্রশ্ন রেখেছেন তিনি।
বাজার করতে আসা অনেক ক্রেতা জানান, কাঁচামরিচ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। কিন্তু এটার দাম এখন নাগালের বাইরে। দাম বেড়েই চলছে। কাঁচামরিচ ছাড়া রান্না করব কীভাবে।এছাড়া শাক-সবজির দামও বেশি। দুই-তিন রকমের সবজি অল্প করে কিনলেও ২০০-২৫০ টাকা লাগে। এভাবে তো চলা যায় না।
ব্যবসায়ীরা জানান, সপ্তাহ দেড়েক আগে টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সবজির সরবরাহ কমে যায়। তখন থেকেই কাঁচামরিচের দাম বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে, তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচামরিচের। ব্যবসায়ীদের মতে, উৎপাদন স্বাভাবিক হলে এবং নতুন করে বাজারে সরবরাহ বাড়লে কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কমতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলমান বৃষ্টি ও বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন কৃষি অঞ্চলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে আগামী কয়েক দিন নিত্যপণ্যের বাজারে দামের চাপ আরও কিছুটা বাড়তে পারে।
তবে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং কৃষিপণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন হলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে। তখন কাঁচামরিচসহ অন্যান্য সবজির দামও ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।







