প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে কানাডার সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে কানাডার খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা কানাডিয়ান ফুড ইনস্পেকশন এজেন্সির (সিএফআইএ) সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল।
বুধাবার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার কানাডার রাজধানী অটোয়ায় সিএফআইএর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। কানাডার পক্ষে সংস্থাটির মহাপরিচালক ড. পার্থি মুথুকুমারাসামি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান ও উপপরিচালক মো. শরিফুল হক অংশ নেন। বৈঠকে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাণিস্বাস্থ্য, ভেটেরিনারি সেবা, পশুখাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, রোগ নজরদারি, গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) মান বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া প্রাণিজ পণ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কারিগরি সহযোগিতা বৃদ্ধি, তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আধুনিক পরীক্ষাগার ও খাদ্য পরিদর্শন ব্যবস্থা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে উভয়পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।
বৈঠকে সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।এক্ষেত্রে কানাডিয়ান ফুড ইনস্পেকশন এজেন্সির কারিগরি সহযোগিতা বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কানাডিয়ান ফুড ইনস্পেকশন এজেন্সির মহাপরিচালক ড. পার্থি মুথুকুমারাসামি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাণিস্বাস্থ্য ও নিয়ন্ত্রক সক্ষমতা উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময় ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে।
বৈঠক শেষে উভয়পক্ষ প্রাণিসম্পদ ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।







