সারাদেশে টানা কয়েক দিনের বর্ষণের পর গতকাল রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীবাসী। শনিবার মধ্যরাত থেকে টানা ভারি বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তারমধ্যে ভোর ৫টা থেকেই ঢাকার আকাশ ভেঙে নেমেছে ঝুম বৃষ্টি। এতে করে ঢাকায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, যা চলতি মাসে স্বল্প সময়ে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের মধ্যে অন্যতম।
প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার অলিগলি সবখানেই এখন থৈ থৈ করছে পানি। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের সকালে এমন চরম জলজটের কারণে অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা পড়েছেন নজিরবিহীন ভোগান্তিতে।
টানা বর্ষণের কারণে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসের সকালে রাজধানীর জনজীবন ব্যাহত হয়। প্রধান সড়ক ও অলিগলির অনেক অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। বনানী, বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, ধানমন্ডি-২৭, নিউমার্কেট, গ্রিন রোড, মতিঝিল এবং মিরপুরের শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কোথাও হাঁটুপানি কোথাও বা কোমরসমান পানি জমে যায়।
টানা বৃষ্টিতে মিরপুর, মতিঝিল, নয়াপল্টন, মালিবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। অনেক রাস্তায় এরই মধ্যে জমে গেছে হাঁটুপানি, কোথাও কোথাও পানি কোমর পর্যন্ত ঠেকেছে। ফলে সকালে যারা অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কিংবা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হয়েছেন, তারা পড়েছেন চরম বিপাকে। শিক্ষার্থী, পথচারী এবং গণপরিবহন সংকটে পড়া মানুষদের রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহন চলাচল থমকে যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজটের।
এছাড়া ধানমন্ডি, মিরপুর, মতিঝিল, মৌচাক, মালিবাগ, কারওয়ান বাজার, গ্রীণরোড, নয়াপল্টন শাহজাদপুর, বাড্ডা (বিশেষ করে মধ্যবাড্ডা, আদর্শনগর, ময়নারবাগ ও পোস্ট অফিস এলাকা), রামপুরা, বনশ্রী ও উলন রোড, কুড়িল বিশ্বরোড পুরান ঢাকার বিভিন্ন প্রধান সড়ক ও অলিগলি পানিতে টইটুম্বুর। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, বেশ কিছু নিচু এলাকার ঘরবাড়ি এবং বাসাবাড়ির নিচতলায় পানি ঢুকে পড়েছে। জলমগ্ন প্রধান সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজটের। অনেক রাস্তায় পানি থই থই করায় সিএনজি, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন বিকল হয়ে মাঝরাস্তায় আটকে থাকতে দেখা গেছে।
বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে সকালের ঝোড়ো বাতাসে কয়েকটি এলাকায় গাছ উপড়ে রাস্তার ওপর পড়ে যায়। এতে করে ওইসব রুটে যান চলাচল সাময়িকভাবে পুরোপুরি ব্যাহত হয়, যা দুর্ভোগের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গণপরিবহন না পেয়ে এবং অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে কর্মস্থলগামী মানুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টির এই ধারা এখনই থামছে না। আজ সারাদিনই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে বিকেলের দিকে ঘরমুখী মানুষকে আরও বড় ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজধানীতে টানা ভারী বৃষ্টিতে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের ভেতরেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ওইদিন সচিবালয়ের প্রধান প্রবেশপথ থেকে একাধিক ভবনের সামনের চত্বর, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও গণমাধ্যম কেন্দ্রের পথ পানিতে তলিয়ে গেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্যান্ট গুটিয়ে, জুতা হাতে নিয়ে পানি মাড়িয়ে অফিস করতে হয়েছে। বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তেই সচিবালয়ের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। প্রধান (১ নম্বর) প্রবেশ গেট দিয়ে ঢুকেই জমে থাকা পানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দর্শনার্থীদের।
সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের চারপাশ, ৭ নম্বর ভবনের সামনে ও পেছনের অংশ, ক্লিনিক ভবনের পূর্ব ও উত্তর পাশের চত্বর পানির নিচে তলিয়ে যায়। এছাড়া ৩ ও ৪ নম্বর ভবনের মাঝখানের সড়ক সম্পূর্ণ পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় চলাচল ব্যাহত হয়। ৩ নম্বর ভবনের মাঝখানে থাকা বাগানও পানির নিচে চলে গেছে। গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নির্ধারিত মিডিয়া সেন্টারে যাওয়ার পথেও পানি জমে থাকায় সেখানে পৌঁছাতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। সচিবালয়ের বিভিন্ন স্থানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্যান্ট গুটিয়ে, জুতা হাতে নিয়ে পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
জলাবদ্ধতার কারণে সচিবালয়ের অভ্যন্তরে এক ভবন থেকে আরেক ভবনে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অনেককে বিকল্প পথ ব্যবহার করেও গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে।
*বৃষ্টিতে রাজদানীর অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিকী ও প্রাকনির্বাচনী পরীক্ষা স্থগিত:
প্রবল বর্ষণের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়কে পানি জমে যাওয়ায় বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিকী ও প্রাকনির্বাচনী পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ঢাকার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহরীন খান রূপা রোববার দুপুরে বলেন, “রাজধানীর বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৈরি আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা স্থগিত করেছে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিল পরীক্ষা স্থগিত করবে কি না। তাদের অনেকে পরীক্ষা স্থগিত করেছে।”
তিনি আরোও বলেন, “নাবাবগঞ্জ উপজেলার সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই পরীক্ষা স্থগিত করেছে। আর রাজধানীর কিছু প্রতিষ্ঠান সকালের পরীক্ষা নিতে পেরেছে, দুপুরের পরীক্ষা স্থগিত করেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান দুই বেলার পরীক্ষাই স্থগিত করেছে।”
এ দিন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণির অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা, দশম শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা এবং একাদশ শ্রেণির ব্যবহারিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন শিক্ষক। আরমান খান নামে এক অভিভাবক বলেন, ধানমণ্ডি কামরুন্নেছা স্কুলের অর্ধবার্ষিকী এবং প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা বৈরি আবহাওয়ার কারণে স্থগিত করা হয়েছে।
মোহাম্মদুরের ওয়াইডাব্লিওসিএ স্কুল কর্তৃপক্ষও এদিনের পরীক্ষা ও ক্লাস স্থগিত ঘোষণা করেছে বলে প্রতিষ্ঠানের ফেইসবুক পেইজে জানিয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় শাখার পরীক্ষা স্থগিত করেছে রাজধানীর মিল্লাত হাই স্কুল। প্রতিষ্ঠানটির ফেইসবুক পেইজে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ কর্তৃপক্ষ একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছে। মগবাজারের বিটিসিএল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষও এদিনের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে বলে প্রতিষ্ঠানের ফেইসবুক পেইজে জানিয়েছে।
পুরান ঢাকার শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ শাখার রোববারের সব পরীক্ষা স্থগিত করে নোটিশ জারি করেছে। রোববারের সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছে উইলস লিটল ফ্লাউয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
মিরপুরের বিসিআইসি কলেজ রোববারের চতুর্থ, ষষ্ঠ, সপ্তম ও নবম শ্রেণির পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছে। নবাবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের রোববারের প্রাক-নির্বাচনী ও অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল মান্নান।
এদিনের সব পরীক্ষা স্থগিত করে নোটিশ প্রতিষ্ঠানের ফেইসবুক পেইজে প্রকাশ করেছে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ও। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির সব পরীক্ষা স্থগিত করে নোটিশ জারি করেছে বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ রাইফেলস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজও।সব পরীক্ষা স্থগিত করেছে মিরপুরের সিদ্ধান্ত হাইস্কুল কর্তৃপক্ষও।
মতিঝিল কলোনী হাইস্কুলের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শাখার রোববারের পরীক্ষা স্থগিত করে নোটিশ জারি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক নাজনীন ফেরদৌস। এছাড়া গেন্ডারিয়ার ফজলুল হক মহিলা কলেজ কর্তৃপক্ষও রোববার অনুষ্ঠিতব্য একাদশ শ্রেণি, অনার্স চতুর্থ বর্ষ ইনকোর্স পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছে।
*বৈরী আবহাওয়ার কারণে অর্ধশতাধিক বিমানের বিলম্ব অবতরণ:
বৈরী আবহাওয়ার কারণে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে ব্যাপক বিপর্যয় নেমেছে। গতকাল রোববার দুপুরের দিকে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টি ও কম দৃশ্যমানতায় ঢাকায় অবতরণ করতে না পেরে অন্তত দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সিলেট ও কলকাতায় ডাইভার্ট করা হয়েছে। অর্ধশতাধিক আগমন ও প্রস্থান ফ্লাইট দেরিতে অবতরণ করেছে।
দুবাই থেকে ঢাকাগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ সম্ভব না হওয়ায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। অন্যদিকে চীনের গুয়াংজু থেকে আসা চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করা হয়।
আবুধাবি থেকে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ, শারজাহ থেকে এয়ার অ্যারাবিয়া, দুবাই থেকে এমিরেটস, ফ্লাইদুবাই ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট, মদিনা ও সৈয়দপুর থেকে বিমানের ফ্লাইট, ইউএস-বাংলার জেদ্দা ও চট্টগ্রাম ফ্লাইট এবং মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের কুয়ালালামপুর ফ্লাইটসহ অর্ধশতাধিক উড়োজাহাজ আকাশে চক্কর দিয়ে দেরিতে অবতরণ করে।
শনিবার রাতভর ভারী বৃষ্টি এবং সকালে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় উড়োজাহাজের অবতরণ ও উড্ডয়নে জটিলতা তৈরি হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি ফ্লাইট বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয় এবং অনেক ফ্লাইটের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
বিদেশ থেকে আগত ফ্লাইটের প্রভাব পড়ে সার্বিক ফ্লাইট পরিচালনায়। সকাল থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট দেরিতে অবতরণ করায় ঢাকায় অনেক যাত্রী অপেক্ষমাণ ছিলেন। এতে বিমানবন্দরে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ বাড়ে।
*ভারী বৃষ্টিতে জলে ভিজেই তদারকিতে ডিএসসিসি প্রশাসক:
ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন এবং উপড়ে পড়া গাছ অপসারণ করে সড়ক সচল রাখতে ভোর থেকেই মাঠে কাজ করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ওয়ার্ডভিত্তিক ইমারজেন্সি রেসপন্স টিম।
অব্যাহত বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট জলজট দ্রুত নিরসনে ডিএসসিসির কমলাপুরের দুটি এবং ধোলাইখালের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সড়কের পানি নিষ্কাশনের মুখগুলো সচল রাখতে ভোর থেকেই কাজ করছে ইমারজেন্সি রেসপন্স টিম।
এদিকে রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর নীলক্ষেতসংলগ্ন আজিমপুরে ইডেন মহিলা কলেজের ২ নম্বর গেটের বিপরীত পাশে একটি বড় গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যান। তিনি হাঁটুসমান পানিতে দাঁড়িয়ে কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং গাছ অপসারণের কাজ সরেজমিনে তদারকি করেন। দুপুর ১টার দিকে গাছটি সরিয়ে নেওয়ার পর ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সকাল থেকেই ডিএসসিসি প্রশাসক তার আওতাধীন এলাকার প্রধান সড়ক ও গলিপথ পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় চলমান ইমারজেন্সি রেসপন্স টিমের পানি নিষ্কাশন কার্যক্রমও সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, ‘টানা ভারী বর্ষণে সাময়িক জলজট তৈরি হলেও আমাদের কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভোর থেকে মাঠে রয়েছে। জলাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
এ সময় যেকোনো পরিস্থিতিতে নাগরিকদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান।
*ঢাকাসহ ৬ বিভাগে অতিভারি বৃষ্টির শঙ্কা:
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নতুন পূর্বাভাসে ঢাকাসহ দেশের ছয়টি বিভাগে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের সব বিভাগেই অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল রবিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত অবস্থান করছে। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর তীব্রভাবে সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে।
এই আবহাওয়ার কারণে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (৪৪-৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতিভারি (৮৯ মিলিমিটার বা তার বেশি) বর্ষণ হতে পারে।
অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাসের পাশাপাশি রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে এই সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে পটুয়াখালীতে, যার পরিমাণ ১৩২ মিলিমিটার। টানা এই বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চলমান বন্যা ও জলজট পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
*সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত:
দেশজুড়ে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল এবং ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এখনও রাজধানীসহ অনেক এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০০ থেকে ১৮৭ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে পটুয়াখালীতে। এছাড়া মুন্সিগঞ্জের ভাগ্যকুলে ১৭২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে ঢাকায় ১৩৫, ভৈরব বাজারে ১৩০, নরসিংদীতে ১২৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১২০, ফরিদপুরে ১১৮, কক্সবাজারে ১১৫, টেকনাফে ১১৩, জাফলংয়ে ১০৯, চট্টগ্রামে ১০৫ এবং খুলনায় ১০০ মিলিমিটার।
এছাড়া পাবনায় ৯৬, নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ৮৩, সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে ৭৮, সিলেটের লাটুতে ৭৮, নেত্রকোণার জারিয়াজাঞ্জাইলে ৭৩, ফেনীর পরশুরামে ৬৮, নোয়াখালীতে ৬৪, মাদারীপুরে ৬২, সুনামগঞ্জের মহেশখোলায় ৫৮ এবং মৌলভীবাজারের দক্ষিণবাগে ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উজানেও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের আর কে এম সোহরায় ১৬৮ মিলিমিটার, আসামের গোহাটিতে ১২০ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ১০০ মিলিমিটার, রাতাচেরায় ৮০ মিলিমিটার, মাওফালংয়ে ৭৮ মিলিমিটার এবং ত্রিপুরার বেলোনিয়ায় ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উজান ও দেশের অভ্যন্তরে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি এবং বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।







