কৃষিকে লাভজনক, সম্মানজনক এবং আধুনিক পেশা হিসেবে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। একসময়ে কৃষিকে কেবল বেঁচে থাকার বা জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসেবে দেখা হতো, কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কৃষির ধারণা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বর্তমান যুগে কৃষিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক খাত হিসেবে রূপান্তর করার ওপর জোর দিচ্ছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক (ডিজি) কৃষিবিদ আব্দুর রহিম।
বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)-এর আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সাভারের রাজালাক হর্টিকালচার সেন্টারে পলিসেড হাউস প্রাপ্ত ৬০ জন কৃষকের ৫ দিনব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে উদ্বধোনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএই- এর মহাপরিচালক(ডিজি) কৃষিবিদ আব্দুর রহিম। প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ জিয়াউর রহমানের সঞ্চালনা ও উপস্থাপনায় ডিএই-এর ডিজি সরাসরি কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেন।
প্রশিক্ষণে কৃষকদের পলিসেড হাউসে ট্রে-তে চারা উৎপাদন কলাকৌশল ও এর প্রয়োজনীয়তা এবং রক্ষণাবেক্ষণ (মেইনটিন্যান্স) বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এ সময় মহাপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুর রহিম বলেন, ‘পলিসেড হাউস প্রাপ্ত কৃষকরা সমাজের লিড ফার্মার হিসেবে পরিচিতি লাভ করবেন। তারা একদিকে যেমন সফল উদ্যোক্তা হবেন, অন্যদিকে পলিসেডে উৎপাদিত চারা স্থানীয় চরের কৃষকদের কাছে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করবেন। ফলে চরের কৃষকরা সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো মানের চারা পাওয়ার পাশাপাশি সার্বিকভাবে সবজির উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।’
কৃষির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হবে কৃষি এবং কৃষি পেশা হবে একটি আধুনিক পেশা। কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সবাই সম্মান করবে।’
এ সময় তিনি দেশের বিভিন্ন সফল উদ্যোক্তা কৃষকের সাফল্যগাথা তুলে ধরেন, যা উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইংয়ের পরিচালক মো. রওশন আলম এবং প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের পরিচালক ড. মো. মজিবর রহমান।
প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ জিয়াউর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ‘গত বছর বাস্তবায়িত পলিসেড হাউসগুলোতে অত্যন্ত সফলভাবে ট্রে-তে চারা উৎপাদিত হয়েছে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, চলতি অর্থবছরেও এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১২১টি (৫ শতাংশ আয়তনের) পলিসেড হাউস সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে। পলিসেড হাউসগুলো যেন সঠিকভাবে পরিচালিত ও উৎপাদনমুখী হয়, সে বিষয়ে তিনি সকল কৃষকের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।







