আজাদুল ইসলাম আজাদ পীরগঞ্জ প্রতিনিধি, রংপুর: রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় বয়ে চলা করতোয়া নদীর তীর ঘেঁষে চতরা, বড়আলমপুর ও টুকরিয়া ইউনিয়নের চরঅঞ্চলে চাষিদের আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে মিষ্টি আলু। কম খরচে সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ এবং স্বল্প সময়ে বেশি ফলনে আনন্দিত চাষিরা।
চাষিরা জানায়, নদীর বুক থেকে তারা নতুন নতুন ফসল আগেভাগেই পেতে শুরু করেছে। কৃষকরা স্বপ্ন নিয়ে নদীর বুকে বীজ ছিটিয়ে দেয় আর নদী চাষিরদের পকেট ভরিয়ে দেয়। এই মৌসুমের ফসল যেন বড় নদীর উপহার।
জানাগেছে, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা, বড় আলমপুর, টুকুরিয়া ইউনিয়ন দিয়ে বয়ে গেছে করতোয়া নদী। শত-শত বালু চরে এখন চাষাবাদে ভরপুর। ধান পাটসহ সকল সবজির দখলে বালুর চর নদীর পানি কমে গেলেই চাষিরা আগাম জাতের ফসলের পাশাপাশি কয়েক জাতের মিষ্টি আলুর চাষ করে। ফলনও বাজার ভালো পেয়ে চাষিদের মধ্যে চাষাবাদের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়।
এলাকার মিষ্টি আলু চাষিরা বলছেন, নদীর তলার পানি ছাড়া সব জায়গায় ফসল চাষ করা হচ্ছে। এলাকায় মিষ্টি আলু বা (স্যাক আলু) অনেক জনপ্রিয় এবং অনেকেই মিষ্টি আলুর চাষ করে থাকেন। এখন থেকে বিভিন্ন হাটবারে ছয়লাব হয়ে থাকে মিষ্টি আলু। বিগত বছর গুলোতে কিছুটা হতাশ থাকলেও এ মৌসুমে হতাশা কাটিয়ে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে চাষাবাদে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা।
কুয়াতপুর হামিদপুর মিষ্টি আলু চাষি মুর্তজা মিয়া জানান, চরাঞ্চলের বালু মাটিতে বন্যার পানির গড়ানি এসে বালুচরের উর্বরতা বাড়িয়ে দেয়। আমরা ইচ্ছামতো সবধরনের সফলের চাষাবাদ করি। আর এই বালুচর কোন চাষিকে খালি হাতে ফেরায় না।’
তিনি আরো জানান, আমি জমি বর্গা নিয়ে সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে আমি মিষ্টি আলুর চাষ করেছি। দুই সপ্তাহ আগে থেকে বিক্রি করছি। ব্যবসায়ীরা বালু চর থেকে ৮শ টাকা মনে মিষ্টি আলু কিনছে। একই জমিতে ২বার মিষ্টি আলুর চাষ করা হয়, খুব ভালো লাভ হয়।’
ঘাষিপুর গ্রামের রাজু মিয়া বলেন,’বালুচর আমাদের এখন অর্থের ভান্ডার। আমরা বালুর নিচে যেকোনো ফসলের বীজ বপন করি, সেই ফসলই বালুর নিচ থেকে হাসি মুখে বেড়ে উঠছে। একসময় এ বালুচরে কোনো আবাদ হতো না। এখন আমরা সকল ফসলের চাষাবাদ করে থাকি।’
কন্দল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কোকি-১৪, বারি-৭, ৯, ১২ সহ কয়েকটি জাতের মিষ্টি আলু উপজেলার ১২৫ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। এছাড়াও টুকুরিয়া ইউনিয়ন একটি নতুন জাতের মিষ্টি আলুর প্রদর্শনী রয়েছে। ওই নতুন জাতের মিষ্টি আলুর উপজেলার চাষিদের মধ্যে ছড়িয়ে যাবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সুমন আহমেদ জানায়, আবহাওয়া চাষিদের অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। আগাম জাতের মিষ্টি আলু চাষিরা উঠতে শুরু করেছে এবং বাজারে চাহিদা প্রচুর রয়েছে।








