বিশ্বজুড়ে ৫০ বছর এবং বাংলাদেশে দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের সফল উন্নয়ন অভিযাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করার পর, এক নতুন ভিশন ও ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি উন্মোচন করেছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা স্ট্রমী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। রোববরা রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংস্থাটি তাদের নতুন লোগো এবং আধুনিক ব্র্যান্ড রূপরেখা প্রকাশ করে। একই সঙ্গে তারা দারিদ্র্য বিমোচন ও প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিজেদের সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সংস্থাটি তাদের দীর্ঘ পথচলা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে তাদের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে হয়। স্ট্রমী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক ও অধিকারকর্মী রাশেদা কে. চৌধুরী। তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ ও বর্ণিল করে তোলে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের অংশীদারিত্বের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা বিনিময় পর্ব। দীর্ঘদিনের এই উন্নয়ন যাত্রায় যারা স্ট্রমী ফাউন্ডেশনের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছেন, তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বক্তব্যে অংশ নেন উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফাহাদ মাহমুদ ইবনে হুদা, এথনিক কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইসিডিও)-এর নির্বাহী পরিচালক লক্ষ্মীকান্ত সিংহ, সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (এসইউএস)-এর নির্বাহী পরিচালক এস কে ঈমান আলী, কারিতাস বাংলাদেশের প্রতিনিধি রোজী রংমা, গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)-এর প্রতিনিধি আফতাব হোসেন, ইএসডিও-এর প্রতিনিধি মশিউর রহমান এবং স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির প্রোগ্রাম ম্যানেজার কর্নেলিয়াস ডালবোট।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে স্ট্রমী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, এবং দারিদ্র্য বিমোচনে সংস্থাটির ভূমিকা প্রশংসনীয়। মাঠপর্যায়ের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কীভাবে সাধারণ মানুষকে স্বাবলম্বী করা হচ্ছে, বক্তারা তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। এছাড়া এই আয়োজনে সহযোগী সংস্থাগুলোর তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিনিধি এবং তরুণ প্রজন্মের নারী ও পুরুষ সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন, যা অনুষ্ঠানটিকে এক মহামিলনমেলায় পরিণত করে।
পুরো অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন রাহুল এবং স্ট্রমী ফাউন্ডেশনের প্রশংসিত ‘সংলাপ’ কর্মসূচির কিশোরী প্রতিনিধি মোছা. ইয়াসমিন আক্তার ঈশিতা। অনুষ্ঠানের মূল পর্বে প্রধান ও বিশেষ অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে এক জাঁকজমকপূর্ণ কাউন্টডাউনের মাধ্যমে স্ট্রমী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের নতুন লোগো এবং আধুনিক ব্র্যান্ড রূপরেখা উন্মোচন করা হয়। নতুন এই লোগো এবং রূপরেখা উন্মোচনের পর উপস্থিত অতিথিরা করতালির মাধ্যমে সাধুবাদ জানান।
সংস্থার আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয় যে, ব্র্যান্ডের বাহ্যিক রূপ, লোগো এবং ভিজ্যুয়াল আইডেন্টিটিতে পরিবর্তন এলেও সংস্থাটির মূল দর্শন, আদর্শ ও লক্ষ্য সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত থাকবে। সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজের গতিশীলতা বাড়াতেই এই নতুন রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। এই নতুন ব্র্যান্ডিংয়ের মূলমন্ত্র নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘উই আর পোভার্টি ফাইটার্স’ বা ‘আমরা দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যোদ্ধা’।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নতুন এই লোগো ও ব্র্যান্ড রূপরেখা নিয়ে স্ট্রমী ফাউন্ডেশন আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।







