প্রতিকূল জলবায়ু, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহারে যখন আবাদি জমির স্বাস্থ্য হুমকির মুখে, ঠিক তখনই কৃষকদের ভরসা হয়ে উঠছে মিমপেক্স এগ্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের ‘হিউমি কিং’। আধুনিক কৃষিতে মাটির গুণাগুণ ধরে রাখা, সারের অপচয় রোধ এবং ফসলের ফলন বাড়াতে অনন্য ভূমিকা রাখছে এই হিউমিক এসিডভিত্তিক পরিবেশবান্ধব বায়ো-স্টিমুল্যান্ট।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘকাল ধরে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে দেশের বহু অঞ্চলের মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এতে মাটি শক্ত হয়ে গিয়ে অনুজীবের কার্যকারিতা হারাচ্ছে। এ অবস্থায় ‘হিউমি কিং’ মাটির ভৌত ও রাসায়নিক গঠন পুনরুদ্ধারে কাজ করে। এটি প্রয়োগে মাটির পানি ধারণক্ষমতা বাড়ে এবং মাটি ঝুরঝুরে হয়ে বাতাস চলাচলের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়।
বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর সরেজমিন উইং কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী হিউমিক এসিড পণ্যের অনুমোদিত ঘনমাত্রা এর ভৌত রূপের ওপর নির্ধারিত হয়। হিউমিক এসিড পানিতে দ্রুত ও শতভাগ দ্রবীভূত হয়ে গাছের পাতার মাধ্যমে সহজে শোষিত হতে পারে বলে মূলত পাতায় স্প্রে বা ড্রিপ সেচে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
হিউমি কিং প্রাকৃতিক জৈব পদার্থ:
হিউমি কিং হলো হিউমাস ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ একটি উপাদান। যার ব্যবহার করলে উদ্ভিদেরা ও মাটির নানা বিধি উপাকার পেয়ে থাকে । এই মাটিতে অবস্থিত অণুজীবের সংখ্য বহু গুণে বাড়িয়ে দেই ও উদ্ভিদের মূখ্য উপাদান পটাশিয়ামের চাহিদা পূরন করে উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো সহ বিভিন্ন উপকার, ব্যবহারবিধি, প্রয়োগ মাত্রা নিয়ে বিস্তারিত নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো
কেন চাষীরা ব্যবহার করে:
জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার, কীটনাশক, ছত্রাকনাশক ও আগাছানাশক ব্যবহারের ফলে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হওয়া,পিএইচ (pH)-এর মাত্রা বেড়ে মাটি ক্ষারীয় ও বিষাক্ত হওয়া এবং অত্যাবশ্যকীয় উপকারী অণুজীব মরে যাওয়ার কারণে সার দিলেও যখন আর কাঙ্ক্ষিত কাজ হয় না, তখন এই সব জটিল সমস্যা দূর করে মাটির প্রাণশক্তি ও উর্বরতা ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও কার্যকর সমাধান হলো ‘হিউমি কিং’। এটি মাটির বিষাক্ততা দূর করে অণুজীবের বংশবৃদ্ধি বাড়ায়, জমে থাকা সারের সঠিক শোষণ নিশ্চিত করে গাছের শিকড় ও উদ্ভিদের সার্বিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে এবং দীর্ঘমেয়াদে জমির স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি কম খরচে ফসলের বাম্পার ফলন নিশ্চিত করতে চাষিদের জন্য অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।
শিকড়ের বিস্তার ও সারের সর্বোচ্চ ব্যবহার:
‘হিউমি কিং’ গাছের শিকড় বা মূল ব্যবস্থার দ্রুত বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণে অত্যন্ত কার্যকর। শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করতে পারায় গাছ সহজেই মাটি থেকে রস ও পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করতে পারে। এছাড়া জমি তৈরিতে বা সার প্রয়োগের সময় হিউমি কিং ব্যবহার করলে জমিতে থাকা আবদ্ধ পুষ্টি উপাদান গাছের গ্রহণযোগ্য রূপ নেয়। ফলে কেমিক্যাল সারের অপচয় কমে এবং প্রয়োগকৃত অন্যান্য সারের কার্যকারিতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
প্রতিকূল পরিবেশেও ফসলের সুরক্ষাবলয়:
চলতি মৌসুমে অনাবৃষ্টি, তীব্র দাবদাহ কিংবা আকস্মিক জলাবদ্ধতার মতো পরিবেশগত নানা ধাক্কা সামলাতে গাছকে শক্তি জোগায় এই অণুখাদ্য। এটি গাছের ভেতরে ক্লোরোফিল উৎপাদন বাড়ায়, যার ফলে পাতা গাঢ় সবুজ থাকে এবং শালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার গতি বাড়ে। এতে ফুল ও ফল ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
মাঠপর্যায়ের কৃষকরা জানান, ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ, টমেটো, মরিচসহ বিভিন্ন শাকসবজি ও ফলমূলে হিউমি কিং ব্যবহার করে তারা ইতিবাচক ফলাফল পাচ্ছেন। এতে ফলের আকার ও রঙ আকর্ষণীয় হওয়ার পাশাপাশি সার্বিক উৎপাদন খরচ কমে আসছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মাটির অনুজীব বাঁচিয়ে রেখে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করতে এবং কম খরচে অধিক ফলন পেতে ‘হিউমি কিং’ আধুনিক কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক ও বৈপ্লবিক সমাধান।







