বাংলাদেশকে সরকার আঞ্চলিক অ্যাভিয়েশন হাবে পরিণত করতে চায় বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। তিনি বলেন, ‘২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি অন্যতম প্রধান বিমান চলাচল কেন্দ্র বা অ্যাভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা (সিভিল অ্যাভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান) প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।’ তিনি বলেন, এরই মধ্যে দেশের বন্ধ বিমানবন্দরগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘বিমান চলাচল মহাপরিকল্পনা পর্যালোচনা’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। আগামী দিনে দেশের বিমান খাত কোথায় অবস্থান করবে, সেটির মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সেখানে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকার ওপর জোর দেন তিনি।
বিমানমন্ত্রী বলেন, বিমান পরিবহণ এখন আর শুধু যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের মাধ্যম নয়; এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পর্যটন বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই একটি আধুনিক, দক্ষ ও টেকসই বিমান পরিবহণ ব্যবস্থা জাতীয় উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক বিমান চলাচল কেন্দ্র (এভিয়েশন হাব) হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সুপরিকল্পিত মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন। দেশের বিমান খাত আগামী দিনে কোথায় অবস্থান করবে, তার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা এই মহাপরিকল্পনায় প্রতিফলিত হতে হবে।
ঢাকা থেকে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালু ২০২৮ সালের আগে হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেন, নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে। এই সময়ের মধ্যে এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, আগামী ১৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন করবেন। এর আগে জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত বিমান চলাচল মহাপরিকল্পনা (মাস্টার প্ল্যান) প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এ লক্ষ্যে কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজামান মিল্লাত বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচালনার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরকে আরও কার্যকর ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার। সভাপতিত্ব করেন বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। কর্মশালায় দেশের বিমান চলাচল খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।








