পলিথিন শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ হওয়ার ২৪ বছর পরও বাংলাদেশে এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে অব্যাহত রয়েছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষিত শহুরে মানুষের মধ্যেও পলিথিন ব্যবহারের প্রবণতা বেশি। এছাড়া ৬৩ শতাংশ বিক্রেতা পলিথিন নিষিদ্ধ জানলেও নিয়মিত এটি ব্যবহার করেন। তবে ৫৫ শতাংশ বিক্রেতা জানিয়েছেন, বিকল্প ব্যাগ সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হলে তারা পলিথিনের ব্যবহার কমাতে আগ্রহী।
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) প্রকাশিত ‘বিয়ন্ড দ্য ব্যান: আনপ্যাকিং পলিথিন ডিপেনডেন্সি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ১ হাজার ৯৪২ জন ভোক্তা ও বিক্রেতার নিকট থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
গবেষণায় বলা হয়েছে, সহজলভ্যতা, কম খরচ, সুবিধা এবং দীর্ঘদিনের অভ্যাসের কারণে ভোক্তা ও বিক্রেতারা এখনও পলিথিনের ওপর নির্ভরশীল। আইনের ফাঁকফোকর, দুর্বল প্রয়োগ, বিকল্পের সীমিত প্রাপ্যতা এবং নীতির বাস্তবায়ন ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
দেশের শহর, উপশহর ও গ্রামীণ এলাকার দুই হাজারের বেশি ভোক্তা ও বিক্রেতার মতামতের ভিত্তিতে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা, সিটি করপোরেশন প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, নীতি বিশ্লেষক, উদ্যোক্তা ও পরিবেশকর্মীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সচিব সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ বলেন, পলিথিন শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ এক সময় বিশ্বকে পথ দেখিয়েছিল। এখন প্রয়োজন সেই আইনের কাঙ্ক্ষিত প্রভাব নিশ্চিত করা।
এসডোর সাধারণ সম্পাদক ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, পলিথিন নির্ভরতা কমাতে বহুখাতভিত্তিক সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন হলেও এ ক্ষেত্রে এখনও সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে।
এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দিকা সুলতানা বলেন, পরিবেশগত লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে পলিথিনমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব।
পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মাহমুদা তামারা খান বলেন, পলিথিন উৎপাদনকারী সিন্ডিকেট শক্তিশালী হলেও কার্যকর প্রয়োগ নীতি ও সক্ষমতার মাধ্যমে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।
গবেষণায় সুপারিশ করা হয়েছে, আইনের কঠোর প্রয়োগ, পরিবেশগত শিক্ষা জোরদার, সাশ্রয়ী বিকল্প ব্যাগের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি, বিক্রেতাদের সহায়তা এবং সরকার, ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে পলিথিনমুক্ত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের করা এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের তিন প্রধান নদী পদ্মা, মেঘনা ও যমুনায় দিনে ৭৩ হাজার টন প্লাস্টিক ও পলিথিন পড়ে। পলিথিন পড়ার দিক থেকে ওই নদী অববাহিকা এখন দ্বিতীয় অবস্থানে। নগর পেরিয়ে প্লাস্টিক-পলিথিন ছাড়িয়ে পড়েছে দুর্গম গ্রাম ও জনপদে। দেশে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আইন আছে। তবু দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন পলিথিন ও প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহার করছে।
গবেষণা বলছে, প্লাস্টিক মাটি ও পানির ক্ষতি করে মানুষের বিপদ ডেকে আনছে। এসব প্লাস্টিকের সঙ্গে নানা বিষাক্ত রাসায়নিক থাকছে। এসব রাসায়নিক ব্যবহারের পর মাটির সঙ্গে, পোড়ানোর পর বাতাসের সঙ্গে এবং খাদ্যপণ্যের সঙ্গে মানুষের শরীরে ঢুকছে। উচ্চ রক্তচাপ থেকে শুরু করে ক্যানসারের মতো রোগ ছড়াচ্ছে।








