সারা দেশের মতো কুড়িগ্রাম জেলার শস্যভান্ডারখ্যাত ভূরুঙ্গামারী উপজেলাতেও সরকারিভাবে ‘কৃষকের অ্যাপ’-এর মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে। তবে মাঠপর্যায়ে অনেক কৃষকের কাছে এই অ্যাপ সম্পর্কে এখনো পর্যাপ্ত ধারণা নেই।
উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকে এখনো জানেন না কীভাবে এই অ্যাপে নিবন্ধন করতে হয় বা কীভাবে আবেদন করতে হয়। অনেকে সরকারের এই ডিজিটাল ধান সংগ্রহ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্ময়ও প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় কৃষকদের কাছ থেকে ১ হাজার ৬৮৩ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কেজিপ্রতি সরকারি মূল্য ধরা হয়েছে ৩৬ টাকা, যা প্রতি মণ ১ হাজার ৪৪০ টাকার সমান।
ধান সংগ্রহের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৫ মে থেকে, যা চলবে ২০ মে পর্যন্ত। প্রয়োজনে সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কৃষকদের ভোগান্তি ও অনিয়ম কমাতে ২০১৯ সালে ‘কৃষকের অ্যাপ’ চালু করে খাদ্য বিভাগ। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি উপজেলায় চালু হলেও পরে তা সারা দেশে বিস্তৃত করা হয়।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে ১০টি ইউনিয়নে ১৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৪১ টন।
অ্যাপ ব্যবহারের নিয়ম অনুযায়ী, গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করে জাতীয় পরিচয়পত্র, কৃষক কার্ড, জমির তথ্য ও মোবাইল নম্বর দিয়ে আবেদন করতে হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়।
নির্বাচিত কৃষকরা এসএমএসের মাধ্যমে ধান সরবরাহের তারিখ জানতে পারবেন এবং নির্ধারিত সময়ে খাদ্য গুদামে ধান দিতে পারবেন।
তবে অনেক কৃষকের অভিযোগ, তারা এই অ্যাপ সম্পর্কে জানেন না বা ব্যবহার করার সক্ষমতা নেই। স্মার্টফোনের অভাব, অ্যাপে নিবন্ধনের জটিলতা ও সার্ভার সমস্যার কারণে অনেক কৃষক সরকারি দরে ধান বিক্রি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙা গ্রামের কৃষক এরশাদ আলী ও কফিলুর রহমান জানান, “সরকার অ্যাপের মাধ্যমে ধান কিনবে শুনেছি, কিন্তু কীভাবে ব্যবহার করতে হয় জানি না।”
উত্তর ধলডাঙা গ্রামের কৃষক শাহিন মিয়া বলেন, “আমার মতো অনেক কৃষকই এই অ্যাপ সম্পর্কে জানেন না।”
তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাট গোপালপুর গ্রামের কৃষক মাইদুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে না পেরে কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে। সরকারি গুদামে ধান দিতে গেলে নানা হয়রানির অভিযোগও করেন তিনি।
জয়মনিরহাট খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সমাজেদুল ইসলাম অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গুদামে ধান জমা দিতে কোনো হয়রানি হয়নি।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হামিদুল ইসলাম জানান, অ্যাপ সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করতে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার কৃষক অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করেছেন। মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা কৃষকদের সহায়তা করছেন।








