কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প’-এর পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, ‘এ বছর ২ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার ফলন বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন পর্যন্ত উৎপাদনে বড় কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। তবে,কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টির কারণে সুবিধা হইছে কারণ অনেকদিন ধরে ওই এলাকায় খরা ছিল।’
তিনি আরও জানান, আগামী মে মাস থেকে আম সংগ্রহ শুরু হয়ে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে। প্রধান উৎপাদনকারী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, সাতক্ষীরা ও দিনাজপুর।
মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, কালবৈশাখি ঝড়ে ক্ষতি না হলে ২৭ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি রপ্তানিতেও নতুন রেকর্ড হতে পারে। গত বছর চীনের বাজারে ৩ মেট্রিক টন আম পাঠিয়ে প্রথমবারের মতো রপ্তানি শুরু হয়।
আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা মাঠে থেকে কৃষকদের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। তাদের আম চাষে সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করার ফলে আমের উৎপাদন প্রতি বছর বেড়ে চলেছে। তবে আম রপ্তানিতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে যা নিরসনে কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে’, বলেও জানান তিনি।
রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের লক্ষ্য সর্ম্পকে তিনি বলেন, প্রকল্পটি শুরু হয়েছে ২০২২ সালের জুলাই মাসে। মূল লক্ষ্য একটাই–বাংলাদেশের আমকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার উপযোগী করে তোলা। একসময় আমাদের দেশের আমের বড় সমস্যা ছিল গুণগত মান। ফলের গায়ে দাগ থাকত, রোগাক্রান্ত হতো, আকার-আকৃতিতে এক রকম থাকত না। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা কম ছিল। এই বাস্তবতা বদলাতে আমরা কয়েকটি স্তরে কাজ করছি।
প্রথমত, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে দেখানো হচ্ছে কীভাবে উন্নত জাত নির্বাচন, সঠিক ছাঁটাই, রোগবালাই দমন এবং ফলের মান উন্নত করা যায়।
দ্বিতীয়ত, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা মাঠে কৃষকদের কার্যকরভাবে সহায়তা করতে পারেন।
তৃতীয়ত, আমরা শুধু উৎপাদনেই থেমে নেই; পুরো এক্সপোর্ট চেইন নিয়ে কাজ করছি। উৎপাদনকারী, সংগ্রাহক, রপ্তানিকারক, প্যাকেজিং ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। লোডিং-আনলোডিংয়ের সময় যাতে ফল ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই বিষয়েও জোর দেওয়া হচ্ছে।








