শৈশবের সুর ও হাতেখড়ি:
প্রশ্ন: আপনার সংগীত যাত্রার শুরুটা বেশ চমৎকার—নানুবাড়ির হারমোনিয়াম থেকে আজকের এই মঞ্চ। সেই শুরুর দিনগুলোর কথা যদি আমাদের পাঠকদের জন্য একটু বলতেন।
মারিয়া মুনমুন: আসলে গানটা আমার রক্তে মিশে আছে নানুবাড়ির সূত্রে। আমার নানু একজন থানার শিক্ষা অফিসার ছিলেন, অবসরে তিনি যখন হারমোনিয়াম নিয়ে বসতেন, আমি পাশে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতাম। সেই অবুঝ মনেই গানের বীজ বোনা হয়েছিল। আমার হাতেখড়ি হয় পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক জেন্টু দাদুর কাছে। বাবার চাকরির সুবাদে যখন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাড়ি জমাই, সেখানে মহানন্দা সংগীত নিকেতনে শ্রদ্ধেয় এ. কাশেম অনু স্যারের কাছে দীর্ঘ পাঁচ বছর তালিম নিই। এই ভিতটাই আমাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
ছায়ানট ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা:
প্রশ্ন: ঢাকা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ—দুই জায়গার সংস্কৃতির মেলবন্ধন আপনার গানে কেমন প্রভাব ফেলেছে? আর ছায়ানটের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
মারিয়া মুনমুন: ঢাকা আমার বেড়ে ওঠার শহর, আর চাঁপাই আমার শেকড়। এই দুইয়ের মিশ্রণ আমার গানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। ঢাকায় ফেরার পর আমি ছায়ানট সংগীত বিদ্যায়তনে লোকসংগীত বিভাগে ভর্তি হই। এ বছরই আমি ছায়ানটের শিক্ষা কার্যক্রম সাফল্যের সাথে শেষ করেছি। ছায়ানট আমাকে শিখিয়েছে গান শুধু সুর নয়, গান একটা সাধনা। বর্তমানে আমি ইডেন মহিলা কলেজের দর্শন বিভাগে চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়ন করছি, যা আমাকে জীবনকে অন্যভাবে দেখতে সাহায্য করে।
সাফল্যের স্বীকৃতি ও মিডিয়া পদচারণা:
প্রশ্ন: জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে আটটি ক্রেস্ট জয় এবং বাংলাদেশ বেতারে তালিকাভুক্ত হওয়া—এই প্রাপ্তিগুলো সম্পর্কে জানতে চাই?
মারিয়া মুনমুন: আলহামদুলিল্লাহ, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে প্রথম স্থান অধিকার করা এবং ৮টি ক্রেস্ট অর্জন আমার জন্য বড় অনুপ্রেরণা ছিল। আমি রাজশাহী বেতারে শিশু শিল্পী হিসেবে লালনগীতিতে তালিকাভুক্ত ছিলাম। সম্প্রতি বাংলাদেশ বেতার, ঢাকা-তে লোকসংগীত শিল্পী হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছি। এছাড়া আরটিভি, এসএ টিভি ও নাগরিক টিভির মতো বড় প্ল্যাটফর্মে পারফর্ম করার সুযোগ আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
পথচলার মূল শক্তি: মা
প্রশ্ন: আপনার এই দীর্ঘ পথচলায় আপনার আম্মুর অবদান নিয়ে আপনি সবসময়ই আবেগপ্রবণ। তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে কিছু বলুন।
মারিয়া মুনমুন: আম্মু ছাড়া মারিয়া মুনমুন আজ এখানে থাকত না। স্টেজে কী গাইব, কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করব—সবকিছুর পেছনে আম্মুর মস্তিষ্ক আর শ্রম কাজ করে। প্রতিটি অনুষ্ঠানে তিনি আমার ছায়ার মতো পাশে থাকেন। আমার পরিবারের এই অকুন্ঠ সমর্থনই আমার এগিয়ে যাওয়ার মূল শক্তি।
যন্ত্রসংগীত ও মৌলিক গানের স্বপ্ন
প্রশ্ন: আপনি কেবল গায়িকা নন, আপনি গিটার ও পিয়ানো বাজাতেও পছন্দ করেন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
মারিয়া মুনমুন: হ্যাঁ, হারমোনিয়াম তো অবিচ্ছেদ্য অংশ, তবে গিটার বাজিয়ে নিজের মতো করে গান গাইতে আমি খুব ভালোবাসি। আমার বড় স্বপ্ন হলো মৌলিক গান করা। একজন শিল্পীর প্রকৃত পরিচয় তার নিজস্ব গানে। আমি এমন কিছু কাজ করে যেতে চাই যা শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী হবে।
মারিয়া মুনমুন (লোকসংগীত শিল্পী ও শিক্ষার্থী)








