সারাদেশের তাপপ্রবাহ (হিটওয়েভ) মোকাবিলায় সরকার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় নানান পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক(ডিজি) রেজওয়ানুর রহমান বলেন, ‘তাপমাত্রা বৃদ্ধির একটি প্রধান কারণ গাছপালা কমে যাওয়া। এর প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় খালের আশেপাশে গাছ লাগাচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত করছে। প্রকৃতিকে রক্ষা করতে সবুজায়ন এবং পানির উৎস বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরোও বলেন, ‘ ইতিমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে ‘ফুড বাস্কেট’ বা খাদ্য সহায়তা মজুত রাখা হয়েছে। যদি কোন জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা (ইউএনও) মনে করেন যে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে কোনো শ্রমজীবী মানুষ বা দিনমজুরের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তবে তাদের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত খাদ্য সহায়তা দিতে পারবে।’
এছাড়া বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়স্থল ও কুলিং সেন্টার স্থাপনেরর কথাও বলেন তিনি।
তাপ ও শীতের ক্ষেত্রে আর্লি ওয়ানিং সিসটেম বা আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার কথা চিন্তা করছে মন্ত্রণালয়। রেজওয়ানুর রহমান বলেন, ‘বন্যা বা ঝড়ের ক্ষেত্রে যেমন ১, ২, ৩, ৪ নম্বর সংকেত দেওয়া হয়, তেমনি হিটওয়েভ বা তাপপ্রবাহের জন্যও নির্দিষ্ট মাত্রার ভিত্তিতে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা তৈরি করছে মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে মানুষের কাছে তাপপ্রবাহের লক্ষণ ও করণীয় পৌঁছে দেওয়া হবে।’
হিটওয়েভ মোকাবেলায় গবেষণা ও আর্থিক সহায়তা বিষয়েও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘ রাজশাহীতে হিটওয়েভের প্রকোপ বেশি হওয়ায় রেড ক্রিসেন্ট সেখানে গবেষণা চালিয়েছে এবং আর্থিক সহায়তার বিষয়ে কিছু কাজ করেছে, যা প্রয়োজনে অনুসরণ করা যেতে পারে।’
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গত বছর তাপপ্রবাহ ৩৬দিন স্থায়ী ছিল। এবার এল নিনোর প্রভাবের কারণে আবহাওয়া আরও রুক্ষ ও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সেইসাথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আসছে তাপপ্রবাহ, খরা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত। সেইসাথে সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো এই চ্যালেঞ্জকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের কারণে সৃষ্ট প্রচন্ড গরমে শ্রমজীবী সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে।








