অসময়ে বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার আলুখেত তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষীরা। বিশেষকরে, রংপুর বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় খেতের নিচু অংশ পানিতে তলিয়ে থাকায় মাঠে থাকা আলু পচে নষ্ট হচ্ছে। সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্থ আলু চাষকারী কৃষকদের পূণর্বাসনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কোল্ড ষ্টোরেজ এসোসিয়েশন।
এসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু সাক্ষরিত চিঠিতে বলাহয়, সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের প্রথমার্ধে আলু চাষকারী জেলাসমূহ যথা-রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, পঞ্চগড় জেলাসমূহে আগাম যে ঝড় ও বৃষ্টিপাত হয়েছে তাতে করে উল্লেখিত জেলাসমূহে আলু উত্তোলনকালীন সময়ে মাঠে রক্ষিত আলু এবং অনেক ক্ষেত্রে উত্তোলনপূর্ব আলু ফসল জলাবদ্ধতায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এ সকল ক্ষতিগ্রস্থ আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করার উপযুক্ততা হারিয়েছে। উল্লেখিত জেলাসমূহে প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমির আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যা টাকার অংকে প্রায় ছয়শত পচাত্তর কোটি টাকা।
চিঠিতে আরোও বলাহয়, জলাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক জমি হতে আলু উত্তোলন করতে পারেন নাই। যে সকল কৃষক আলু উত্তোলন করতে সক্ষম হয়েছেন সে সকল আলুর গুনগত মান খারাপ হওয়ায় এবং হিমাগারে সংরক্ষণযোগ্য না হওয়ায় বাজারে প্রচলিত আলুর চেয়ে কম মূল্যে ৫ থেকে ৬ টাকা কেজিদরে বিক্রয় হচ্ছে। এতে করে উৎপাদন খরচ কেজি প্রতি প্রায় ১৬ টাকা হলেও উৎপাদন খরচের অর্ধেকেরও কম মূল্যে কৃষকগণ আলু বিক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, বিগত ২০২৫ সালে মোট ১ কোটি ১২ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছিল যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লক্ষ মেট্রিক টন বেশী। ফলে আলু চাষকারী কৃষকগণ উৎপাদন খরচ কেজি প্রতি প্রায় ১৬ টাকার স্থলে ৮ থেকে ১২ টাকায় প্রতি কেজি আলু বিত্রনয় করেছেন এবং আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।
এমতাবস্থায়, ক্ষতিগ্রস্থ আলু চাষকারী কৃষকদেরকে অর্থনৈতিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার নিমিত্তে কৃষি পূণর্বাসন কর্মসূচীর আওতায় প্রয়োজনীয় প্রণোদনা প্রদানের কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণকে নির্দেশনা প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চলতি মৌসুমে ৪ লাখ ৬৭ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১ কোটি ১৩ লাখ ৬৪ হাজার ৭০০ টন। যদিও ৪ লাখ ৬৯ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়। ওই বছর রেকর্ড ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৩ হাজার ৬০০ টন আলুর উৎপাদন হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, এরই মধ্যে ৭৫ শতাংশের মতো আলু সংগ্রহ করা হয়েছে। মাঠে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ আলু রয়েছে।








