প্রকৃতি মাঝে মাঝে চমকে দিতে ভালোবাসে। চেনা রঙের ভিড়ে হঠাৎই অচেনা এক আভা এসে দাঁড়ায় বিস্ময়ের মতো।
সেই বৈচিত্র্যময় রঙের বাহারে মৌলভীবাজারের আজমেরু গ্রামে দেখা মিলছে ‘বিরল’ হলুদ শিমুলের। সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের ‘বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজে’ ফুটে থাকা দুষ্পাপ্য এই ফুলটি দেখতে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকরা।
গত শনিবার সকালে জেলার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু গ্রামের বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজের কাছে যেতেই চোখে পড়ে হলুদ শিমুল গাছটি। প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার পাতাঝরা গাছটির ডালে ডালে ফুটে আছে অসংখ্য ফুল। কোথাও একটি, কোথাও দু-তিনটি, আবার কোনো ডালে একসঙ্গে অনেকগুলো। ডালজুড়ে রয়েছে সবুজ ও আধফোটা অসংখ্য কলিও।
এ সময় দেখা যায়, বার্ড পার্কের মসজিদ প্রাঙ্গণে নানা প্রজাতির ফুলগাছের সমাহার। রঙে-রূপে, গন্ধে-গুণে তারা যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি দর্শনার্থীদের মনও কাড়ে। তবে সবার মাঝেই আলাদা হয়ে চোখে পড়ে এক গাছ, যার ডালে ডালে ফুটে আছে দুষ্প্রাপ্য হলুদ শিমুল।
স্থানীয়দের ভাষায়, সাধারণত এ অঞ্চলে লাল বা লাল-হলুদ মিশ্র শিমুল ফুল বেশি দেখা যায়। একেবারে হলুদ শিমুল খুবই দুষ্প্রাপ্য। এমন ফুল এর আগে এই এলাকায় চোখে পড়েনি। বিরল এই শিমুল দেখতে প্রতিদিনই পার্কে ভিড় করছেন কৌতূহলী দর্শনার্থীরা। তারা থমকে দাঁড়ান, ছবি তোলেন। অনেকে বিস্ময়ে বলছেন- শিমুল তো লালই হয়, হলুদও হয় নাকি!
দর্শনার্থী রায়হান হাসান বলেন, ‘শিমুল তো সব সময় লাল দেখেছি। হলুদ শিমুল দেখব ভাবিনি। খুবই ব্যতিক্রম আর সুন্দর লাগছে।’ আরেক দর্শনার্থী কলেজশিক্ষার্থী সাবিহা নাসরিন বলেন, ‘দূর থেকেই গাছটি আলাদা করে চোখে পড়ে। কাছে গিয়ে দেখি ডালে ডালে হলুদ শিমুল ফুল। ছবি না তুলে থাকা যায় না।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জাতীয় পরিষদ সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, প্রকৃতির বৈচিত্র্য যে কত সমৃদ্ধ, এই গাছ তারই উদাহরণ। এ ধরনের বিরল প্রজাতি টিকিয়ে রাখতে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এটি সংরক্ষণ করা জরুরি। বিরল গাছ হিসেবে পরিচর্যা দরকার।
তরুণ উদ্যোক্তা এবং বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদ আহমেদ চৌধুরী দুই বছর আগে শখ করে পার্কে সাদা, লাল ও হলুদ—তিন রঙের শিমুলের চারা রোপণ করেছিলেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রথমবার তার বাগানে দেখা মেলে হলুদ ফুলটির।
জাহেদ আহমেদ চৌধুরী আরোও বলেন, হলুদ শিমুল খুবই দুষ্প্রাপ্য। আমি কখনো দেখিনি। দুই বছর আগে সাদা, লাল ও হলুদ শিমুল লাগিয়েছিলাম। প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার গাছে গত বুধবার প্রথম হলুদ শিমুল ফুটেছে। বার্ড পার্কে দুর্লভ ও বিরল আরও ফুলের গাছ লাগানোর ইচ্ছা আছে।
কথাসাহিত্যিক আকমল হোসেন নিপু জানান, এ অঞ্চলে হলুদ শিমুলের দেখা মেলে না বললেই চলে। হলুদ শিমুল একটি দুষ্প্রাপ্য ও বিরল প্রজাতির ফুল। এর উজ্জ্বল হলুদ রঙ সহজেই দৃষ্টি কাড়ে। শীতের শেষে ফাল্গুন-চৈত্রে এই ফুল ফোটে। ফুল ফোটার আগে লাল শিমুলের মতোই হলুদ শিমুলগাছের পাতাও ঝরে যায়। গড়ন ও আকৃতিতে এটি লাল শিমুলের মতোই, তবে রঙের ভিন্নতায় তৈরি করে আলাদা আবেদন। হলুদ ফুল প্রকৃতিকে দেয় এক অনন্য নান্দনিকতা।








