কৃষি খাত দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের অন্যতম ভিত্তি হলেও জিডিপিতে অবদান ১২ শতাংশে সীমিত। অথচ দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪৭ শতাংশ এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ২১ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকা, কৃষিজমি হ্রাস, মাটির উর্বরতা অবনমন ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এ খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারী) রাজধানীর পিকেএসএফ ভবন-১-এ অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এ কথা জানানো হয়। পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস প্রফেসর ড. এ.এন.এম. মাহবুব-উল আলম এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান মোঃ আবদুছ ছালাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক(এমডি) মোঃ ফজলুল কাদের।
প্রধান অতিথি ড. এ.এন.এম. মাহবুব-উল আলম বলেন, ‘অনেক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব কার্যাবলী পালনে পারঙ্গম না হওয়া সত্বেও অন্য কেউ পারঙ্গম হলে, তাকে সে কাজে যুক্ত করতে অনীহা প্রকাশ করে। ফলে, সম্ভাবনাময় মেধার প্রয়োগ থেকে দেশ বঞ্চিত হয়। এ গণ্ডি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’
কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের মাঝে সুষম সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য অভিন্ন; দেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’
মোঃ আবদুছ ছালাম বলেন, ‘উন্নত কৃষিচর্চার লক্ষ্য চারটি: উচ্চতর ফলন, অধিকতর পুষ্টিমান, পরিবেশ সুরক্ষা, এবং এসবের ফলশ্রুতিতে উত্তম জীবন। এ লক্ষ্যে বিএআরসি নিরন্তর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।’
পিকেএসএফ-এর সাথে সহযোগিতা সৃষ্টি হলে এসব গবেষণার আলোকে মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণ জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরো বলেন, ‘কৃষি খাতের দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রণীত “ট্রান্সফরমিং বাংলাদেশ এগ্রিকালচার: আউটলুক ২০৫০”বাস্তবায়নে পিকেএসএফ সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।’
পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান বলেন, ‘কৃষি খাতে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হলেও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ছাড়া টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়।’
প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে শীঘ্রই একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দেশের সমগ্রিক কৃষি খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে পিকেএসএফ ও বিএআরসি-এর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করাই আজকের সভার মূল উদ্দেশ্য। আমরা উভয় পক্ষ সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রচলিত কার্যক্রমের বাইরেও কিছু সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহণ করব, যা কৃষক ও কৃষিখাতের উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম হবে।’
দেশের কৃষি খাতে বিতরণকৃত মোট ঋণের প্রায় অর্ধেকই পিকেএসএফ ও এর সহযোগী সংস্থাসমূহ যোগান দেয় উল্লেখ করে পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা
পরিচালক(এমডি) মোঃ ফজলুল কাদের বলেন, ‘আমরা কৃষিপণ্যের বৈচিত্র্যায়ন ও মূল্য সংযোজনমূলক নানাবিধ সেবা প্রদানের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণ এবং কৃষি উদ্যোগকে একটি আকর্ষণীয়, মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করে যাচ্ছি।’
ইকোলজিক্যাল ফার্মিং পদ্ধতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস ও কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি মাটির উর্বরতা পুনরুদ্ধারে পিকেএসএফ বিশেষভাবে মনোনিবেশ করছে বলেও জানান তিনি।
আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিআরসি’র সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. ওয়ায়েস কবীর এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী। সেখানে কৃষি উন্নয়নে পিকেএসএফ-এর কার্যক্রম বিষয়ক একটি উপস্থাপনা প্রদান করা হয় এবং একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ আয়োজনে পিকেএসএফ ও বিএআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পিকেএসএফ-এর বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার প্রধান নির্বাহীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।








