বাংলাদেশের ভ্রমণপিপাসুদের নিকট এখন ‘খুবই পরিচিত’ নাম— ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস। গত বছরের ৩ নভেম্বর যাত্রা শুরু করার পর বর্তমানে দেশে একটি সুপরিচিত ট্রাভেল ব্র্যান্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশিদের জন্য ভ্রমণের পুরো অভিজ্ঞতাটাই বদলে দিয়েছে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস। সহজ, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য ভ্রমণের জন্য ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস এখন সবার ‘প্রথম’ পছন্দ।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ব্যবসায়ী রেজাউল করীম তার পরিবারসহ মিশর ভ্রমণে যান। এর আগে তিনি ব্যবসায়িক কাজে অনান্য এয়ারলাইন্সে ভ্রমণ করেছেন। কিন্ত তিনি প্রথমবারেরমতো ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসে ভ্রমণ করেন। সেখানকার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ছিলো অসাধরণ। রেজাউল করীম বলেন, ‘ দেশের আকাশে নতুন যুক্ত হওয়া ইথিপিয়ান এয়ালাইন্সে ভ্রমণ ছিল সত্যিই অসাধারণ। এই এয়ারলাইন্সটি নতুন ও সাশ্রয়ী হওয়ায় আমার পছন্দ হয়। এরপর ভ্রমণের সময় তাদের হসপিটালিটটিও ছিল অনেক উচু মানের।’
মোট কথা এই বিমানটি আমাদের দেশের স্বল্প আয়ের মানুষের বন্ধু হিসেবে সাধারণ মানুষের মনে আস্থা করে নিয়েছে, বলে মত তার।
আরেকজন ভ্রমণকারী তৌহিদ হোসেন। তিনিও সম্প্রতি ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসে কুয়েত ভ্রমণ করেন। তিনি বলেন, ‘বাজেট ক্যারিয়ারের মধ্যে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস আমার সবচেয়ে পছন্দের। এয়ারক্রাফটে ক্র’দের ম্যানেজমেন্টও আন্তজাতিক মানের।’
শুধু রেজাউল করীম বা তৌহিদ হোসেনই নয়, এয়ারলাইন্সটি চালু হওয়ার পর প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া ও বিশাল বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করায় ভ্রমণকারীদের পছন্দ হয়েছে।
***ভিসা সহজ ও গ্রুপ ট্যুর চায়:
ট্যুর অপারেটরস ও ট্রাভেল এজেন্ট মালিকরা বলছেন, ভ্রমণকারীদের জন্য আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ভিসা সহজীকরণ, বিভিন্ন গ্রুপ ট্যুর প্যাকেজ দিলে ইথুপিয়ান এয়ার লাইন্সটির সাথে ব্যবসা করতে সুবিধা হবে এবং এয়ারলাইন্সটিও্র দেশে সফল ব্যবসায়ী প্রতিষ্টান হিসেবে দাঁড়াতে পারবে।
ট্যাভেলার্স ডায়েরীর স্বতাধিকারী ওয়াহিদ উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশের যাত্রীদের নিকট ব্রাজিল, মিশরসহ আফ্রিকান কান্ট্রিগুলোতে ইথুপিয়ান এয়ারের ভ্রমণের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এখন যদি ইথুপিয়ান এয়ার লাইন্সিআমাদের রুটগুলোতে অথনৈতিকভাবে ভালো প্রফিট করতে চায় তবে, বানিজ্যিক ফ্লাইটগুলো আরো তড়িৎ গতিতে দিতে হবে পাশাপাশি সেবার মান উন্নত করতে হবে। যদিও তাদের সেবার মান মোটামুটি সন্তোষজনক।‘
তিনি আরোও বলেন, ‘আরেকটা বিষয় এসময়ে আফ্রিকান কান্ট্রিগুলোতে অফ বিটের ট্যুরিজম করার জন্য যাত্রীরা যাচ্ছে । সুতারাং অফ্রিকার বিভিন্ন জায়গায় সাফারী করা; যেমন কেনিয়া, রুয়ান্ডা, ইথুপিয়াসহ ওই অঞ্চলের দেশগুলোতে বিভিন্ন প্রকার সাফারী করা। এ সব দেশে যেহেতু ট্যুরিষ্ট এট্রাক্টশন আছে, ট্যুরিষ্টরা যাচ্ছে তাই আমি ব্যাক্তিগতভাবে মনেকরি ইথুপিয়ান এয়ারলাইন্সকে বাজারে ভালোভাবে টিকে থাকতে হলে গ্রহণযোগ প্রাইজ দিতে হবে তেমনি স্মুথলি ডিপাটচার ও এরাইভ্যালে কাজ করতে হবে।’
***এয়ারলাইন্সের জেনারেল সেলস এজেন্ট যা বলছে:
বাংলাদেশে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের জেনারেল সেলস এজেন্ট রিদম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহাগ হোসেন বলেন, এয়ারলাইন্সটির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও বিশ্বকে আরও কাছাকাছি আনার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া এবং একটি বিশাল বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের পছন্দ হয়েছে।
আমরা চেষ্টা করেছি, নতুন এই রুটটির মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সুবিধাজনক ও সাশ্রয়ী সংযোগ তৈরি করে দেওয়ার। আমরা বিভিন্ন দেশে হলিডে প্যাকেজ চালু করেছি।
তিনি আরো বলেন, ‘১৫ অক্টোবর থেকে ইউএন এর শান্তি রক্ষী মিশনে যাওয়া সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য ১৫ শতাংশ ছাড়ে টিকিট দেওয়া শুরু হয়েছে।’
****ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস:
ইউরোপ-আমেরিকার এয়ারলাইন কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি গত দুই দশকে বিশ্বজুড়ে নেটওয়ার্ক ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কয়েকটি সংস্থা। শীর্ষ এয়ারলাইনসের তালিকায় সেগুলো সবার উপরে। এমন প্রতিযোগিতার মাঝেই ১৫০ উড়োজাহাজের বহর নিয়ে ১৩৪টির বেশি গন্তব্যে নিজেদের সম্ভাবনার জানান দিয়ে যাচ্ছে আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনস ইথিওপিয়ান। তাদের এখন উড়োজাহাজের সংখ্যা দেড়শর বেশি।
ছোট অর্থনীতির পাহাড়বেষ্ঠিত দেশ হলেও হর্ন অব আফ্রিকা নামে পরিচিত ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনসটির উঠে আসার তথ্য রীতিমত অবাক করার মত। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স বিমানের তুলনায় তাদের উড়োজাহাজের বহর সাতগুণের বেশি বড়।
ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৭৮ বছরের পুরনো এয়ারলাইন্সটি ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ১ কোটি ৩৮ লাখ যাত্রী এবং ৭ লাখ টন কার্গো বহন করে ৬ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে।
লুফথানসা, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, এয়ার ইন্ডিয়া, এয়ার চায়নাসহ ৩৯টি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে ইথিওপিয়ানের রয়েছে কোড শেয়ারিং চুক্তি। ভ্রমণ ও আকাশ খাতে কোড শেয়ারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি এয়ারলাইনস তাদের নিজস্ব বোর্ডিং কার্ড দিয়েই যাত্রীদের আরেকটি এয়ারলাইনসের মাধ্যমে তৃতীয় কোনো গন্তব্যের জন্য টিকেট দিতে পারে। এছাড়া স্টার অ্যালায়েন্সের সদস্য হিসেবে তারা ২৬টি সহযোগী এয়ারলাইনসের সঙ্গে তাদের সহযোগিতার চুক্তি রয়েছে।
ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের বাংলাদেশে এয়ারলাইনসের জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) প্রতিষ্ঠান রিদম গ্রুপ সূত্র জানায়, যাত্রী পরিবহন, বহরের আকার এবং আয়ের দিক থেকে ইথিওপিয়ান আফ্রিকার বৃহত্তম এয়ারলাইনস। এটি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এয়ারলাইন হিসেবে স্থান পেয়েছে। এখন বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার সব প্রস্তুতি নিয়েছে সংস্থাটি। কারণ, যাত্রী পরিসংখ্যানে, আকাশ পথে পরিবহনে বাংলাদেশ একটি বৃহৎ মার্কেট। আর ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস চালু হলে আদ্দিস আবাবায় ট্রানজিট দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ৬২টি এবং ইউরোপ, আমেরিকার আরও শতাধিক গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারবেন বাংলাদেশের যাত্রীরা।
***ফ্লাইটের সূচি:
ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট সময়সূচী এবং বুকিংয়ের জন্য তাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে হবে। এ ছাড়া ঢাকায় ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস অফিসে (+৮৮০১৮৪৪২৪১৪৬২/৪৫০ অথবা info@goldairbd.com ) যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।








