কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ২টায় পিএমখালি ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখননের কার্যক্রম শেষ করে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তাঁরা পার্কের ভেতরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী খুবই উচ্ছ্বাসিত ছিলেন।
এর আগে তারেক রহমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেমে নিজেই গাড়ি চালিয়ে খাল খনন কর্মসূচির স্থলে যান। পাশের আসনে বসান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে।
এরপর সেখান থেকে আবারও নিজে গাড়ি চালিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে যান তারেক রহমান। এ সময় পুরো রাস্তাজুড়ে হাজার হাজার স্থানীয় সাধারণ জনগণ এবং দলীয় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফুল ছিটিয়ে ও হাত নেড়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং স্লোগান দিতে থাকেন।
সমুদ্রসৈকতের জন্য পরিচিত কক্সবাজারে বহু পর্যটক গেলেও জেলার অন্যতম আকর্ষণ এই সাফারি পার্ক। এটি দেশের প্রথম সাফারি পার্ক। পাহাড়, বন, জলাধার আর উন্মুক্ত পরিবেশে বিচরণকারী শত শত প্রাণী নিয়ে গড়ে উঠেছে এই অনন্য বন্য প্রাণীর জগৎ।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারায় অবস্থিত পার্কটি। চট্টগ্রাম শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১০৭ কিলোমিটার। কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার। এই সাফারি পার্কের যাত্রা শুরু ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে। তখন ৪২ দশমিক ৫ হেক্টর বনভূমি নিয়ে এখানে একটি হরিণ প্রজননকেন্দ্র গড়ে তোলে বন বিভাগ। পরে দেশের প্রথম সাফারি পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। চকোরিয়ায় প্রতিষ্ঠিত একটি সাফারি পার্কটিতে পশুপাখি মুক্ত অবস্থায় বিচরণ করে। এটি বাংলাদেশের প্রথম সাফারি পার্ক।
হাজারো প্রাণীর আবাস:
ডুলাহাজারা এখন দেশের অন্যতম বড় বন্য প্রাণী সংগ্রহশালা। পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বেষ্টনীতে রয়েছে ৫২ প্রজাতির ৩৪১টি প্রাণী। এর মধ্যে আছে সিংহ, বাঘ, জেব্রা, ওয়াইল্ডবিস্ট, জলহস্তী, কুমির, অজগর, হাতি, ভালুক, ময়ূর ও বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ।
অন্যদিকে উন্মুক্ত পরিবেশে বিচরণ করছে ১২৩ প্রজাতির প্রায় এক হাজার প্রাণী। এ তালিকায় রয়েছে গুইসাপ, শজারু, বনরুই, মার্বেল ক্যাট ও বাগডাশের মতো বন্য প্রাণী। সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনজুরুল আলম বলেন, ‘এখানে ৭টি বাঘ, ৬টি সিংহ ও ২৪টি ভালুক রয়েছে। এ ছাড়া জলহস্তী, কুমির, বনগরু, সাম্বার হরিণ, চিত্রা হরিণ, নীলগাই, বুনো শূকর, বানর, সরীসৃপ ও নানা প্রজাতির পাখি আছে।’
তিনি বলেন, অনেক প্রাণী বেষ্টনীতে থাকলেও অধিকাংশের জন্য রয়েছে বিস্তীর্ণ উন্মুক্ত এলাকা। ফলে দর্শনার্থীরা তাদের স্বাভাবিক আচরণ কাছ থেকে দেখতে পারেন।








