দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশের সবচেয়ে বড় সংগঠন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)। টোয়াব-এর মূল কাজ হলো পর্যটন খাতের সামগ্রিক স্বার্থ রক্ষা করা। সংগঠনটির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন আগামী ১৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য থাকে সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে ট্যুর অপারেটরদের দাবি-দাওয়া জোরালোভাবে উপস্থাপন করা। শাফিউল আল ইমরানকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ফিউশন ট্যুরিজম– এর সিইও ইঞ্জিনিয়ার কবির আহমদ মুমিন। তিনি এবারের টোয়াব নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ভাইস প্রেসিডেন্ট ১ পদে লড়ছেন।
এবারের নির্বাচনে আপনার অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য কী?
কবির আহমদ মুমিন: দেখুন, টোয়াব আমাদের ঘর। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই সংগঠনের ভূমিকা অপরিসীম। আমি দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই খাতের সঙ্গে যুক্ত। আমি দেখেছি আমাদের সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। আমার মূল লক্ষ্য হলো—টোয়াবকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত এবং সদস্যদের জন্য একটি সত্যিকারের সহায়ক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা।
পর্যটন খাতের উন্নয়নে আপনার ইশতেহারে বিশেষ কী থাকছে?
কবির আহমদ মুমিন: আমি মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছি:
*ডিজিটালাইজেশন: আমাদের ছোট-বড় সব মেম্বারদের যেন নিজস্ব ডিজিটাল বুকিং প্ল্যাটফর্ম থাকে, তার জন্য কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা।
*নীতিমালা সংস্কার: সরকারের সাথে লবিং করে ট্যুর অপারেটরদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং ট্যাক্স হলিডের ব্যবস্থা করা।
*দক্ষতা উন্নয়ন: গাইড থেকে শুরু করে কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
বর্তমান বাজারে ছোট ট্যুর অপারেটররা অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে। তাদের জন্য আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
কবির আহমদ মুমিন: অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বড় অপারেটরদের পাশাপাশি ছোট ছোট এজেন্সিগুলোই কিন্তু পর্যটনের তৃণমূল পর্যায় সামলায়। আমি নির্বাচিত হলে একটি ‘মেম্বার সাপোর্ট ডেস্ক’ চালু করব। যারা নতুন বা ছোট পরিসরে কাজ করছেন, তাদের আইনি জটিলতা নিরসন এবং মার্কেটিং সাপোর্টে টোয়াব সরাসরি ভূমিকা রাখবে। কোনো সদস্যই যেন নিজেকে একা মনে না করেন।
বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করতে আপনার নতুন কোনো কৌশল আছে?
কবির আহমদ মুমিন: আমরা শুধু সমুদ্র সৈকত বা পাহাড়ের ওপর নির্ভর করছি। কিন্তু আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, হেরিটেজ এবং ‘রুরাল ট্যুরিজম’ নিয়ে কাজ করার অনেক জায়গা আছে। আমি নির্বাচিত হলে আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ফেয়ারগুলোতে (যেমন:লন্ডন ও বার্লিন মেলা) টোয়াবের পক্ষ থেকে আরও জোরালো এবং সৃজনশীল উপস্থাপনার ব্যবস্থা করব। শুধু স্টল দেওয়া নয়, বরং বিটুবি নেটওয়ার্কিং বাড়ানোর দিকে নজর দেব।
ভোটারদের উদ্দেশ্যে আপনার শেষ বার্তা কী?
কবির আহমদ মুমিন: আমি শুধু প্রতিশ্রুতি দিতে আসিনি, আমি কাজ করতে এসেছি। পর্যটন আমাদের আবেগ। ভোটারদের প্রতি আমার অনুরোধ—আপনারা যোগ্য এবং যারা সত্যিই সময় দিতে পারবেন, তাদের নির্বাচন করুন। আমরা সবাই মিলে যদি একটি ঐক্যবদ্ধ টোয়াব গড়তে পারি, তবেই ‘ব্র্যান্ড বাংলাদেশ’ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।








