বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) কৃষি ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। তারা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এসোসিয়েশনের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে মতামত দেন। এছাড়া, সদস্যরা একটি নির্বাচিত কমিটি গঠনের মাধ্যমে এসকল যৌক্তিক দাবি আদায়ের পক্ষে মতামত দেন।
এসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের এসকল যৌক্তিক সুযোগ সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) এ সাধারণ সভা আয়োজন করেন।
কৃষিবিদ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের কৃষি এবং বিসিএস (কৃষি) ক্যাডার উন্নয়নে কাজ করার কথা জানায়।
বিসিএস (কৃষি) এসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ড. মো. সাহিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে সাধারণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহা পরিচালক মো. সাইফুল আলম উপস্থিত ছিলেন। সাধারণ সভায় বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারের উপজেলা, জেলা, অঞ্চল এবং সদর দপ্তরের সকল স্তরের কর্মকর্তাসহ, বীজ প্রত্যায়ন এজেন্সি, নাটা,এআইএস এর কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
দুইটি পর্ব বিভক্ত সাধারণ সভায় বক্তরা ক্যাডারের স্বারস্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আদায়ের লক্ষ্যে একটি সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে বিসিএস (কৃষি) এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের পক্ষে মতামত দেন।
সভায় আলোচকরা বলেন, বিসিএস (কৃষি) ক্যাডার সদস্যদের উন্নয়নকল্পে ক্যাডার এসোসিয়েশন গঠিত হলেও বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ক্যাডার সদস্যদের উন্নয়নে এটি তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। দীর্ঘদিন একটি গোষ্ঠী এসোসিয়েশন কৃঙ্গিগত করে রেখেছিলেন। এতে করে সাধারণ সদস্যদের মাঝে হতাশা জন্ম নিয়েছিল।
দীর্ঘদিন অকার্যকর এসোসিয়েশনকে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করার উদ্দেশ্যে গতবছর তলবী সভার মাধ্যমে ৩৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সময় দ্রুত একটি সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু বিগত এক বছরে আহ্বায়ক কমিটি একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়নি বলে সাধারণ সদস্যরা হতাশ ছিলেন।
বিসিএস (কৃষি) ক্যাডার সদস্যদের নিয়মিত পদোন্নতি না হওয়ায় ক্যাডার সদস্যরা কাজের প্রতি মনোযোগ হারিয়ে ফেলছিলেন, বিশেষ করে নবীন কর্মকর্তারা পদোন্নতি জটিলতায় হতাশায় ছিলেন। একারণে ক্যাডার সদস্যদের রিভিজিট, টেকনিক্যাল পে, ইনসিটু পদোন্নতি, সুপারনিউমারী পদ সৃজনসহ অন্যান্যা সুযোগ সুবিধার জন্য দীর্ঘদিন কোন পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ সদস্যরা একটি নির্বাচিত কমিটি গঠনের মাধ্যমে এসকল যৌক্তিক দাবি আদায়ের পক্ষে মতামত দেন।
সাধারণ সভায় সদস্যদের মতামতের উপর ভিত্তি করে তিন সদস্য বিশিষ্ট্য একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। নির্বাচন কমিশন বিসিএস (কৃষি) এসোসিয়েশনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের রোডম্যাপ তৈরিসহ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন।
সভায় কৃষিবিদ মো: নূরে আলম সিদ্দিকী তুহিন সভায় প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। কৃষিবিদ মো: মুরাদুল হাসান কার্যকর ক্যাডার এসোসিয়েশন গঠনের জন্য আগামী ডিসেম্বর মাসে এসোসিয়েশনের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে মতামত দেন। সভায় দেশের কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারের রিভিজিটের রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালকরা, এসসিএ’র পরিচালক, এআইএসের পরিচালকসহ বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারের বিভিন্ন স্বরের কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।








