আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘তাসাউফ কনফারেন্স’। সম্মেলনে বক্তারা বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইসলাম প্রচার, তরুণ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং আত্মশুদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের শাহ্জাদা ও মইনীয়া যুব ফোরামের সভাপতি শাহ্জাদা সাইয়্যিদ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন আল হাসানী।
হেকমত ও ভালোবাসার ইসলাম প্রচার
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহ্জাদা সাইয়্যিদ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন আল হাসানী বলেন, জোর করে কোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়। ইসলামের বাণী ছড়াতে হবে ধৈর্য, ভালোবাসা ও হেকমতের (প্রজ্ঞা) মাধ্যমে। বিশেষ করে পাশ্চাত্য সমাজে ইসলামের আলো ছড়াতে মুসলমানদের আরও আন্তরিক হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
একবিংশ শতাব্দীর তরুণদের মনস্তত্ত্ব বোঝার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন:
”একবিংশ শতকে তরুণ প্রজন্মের জীবনযাত্রা ও মনোভাব উপলব্ধি করে, সে অনুযায়ী তাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে হবে।”
পারিবারিক বন্ধন ও নৈতিকতা রক্ষা
বর্তমান সমাজে পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শাহ্জাদা বলেন,’তরুণ সমাজ আজ হতাশাগ্রস্ত হয়ে বিপথগামী হচ্ছে এবং পারিবারিক বন্ধনগুলো ভেঙে পড়ছে। এর ফলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে।’
এই সংকট উত্তরণে তিনি পিতা-মাতা ও সন্তানদের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘পিতা-মাতার উচিত সন্তানদের সময় দেওয়া ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, পাশাপাশি সন্তানদেরও পরিবারের প্রতি যত্নশীল হতে হবে।’
আত্মশুদ্ধির পথ ‘তাসাউফ’ তাসাউফের মূল দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘তাসাউফ হলো মূলত আত্মশুদ্ধির পথ। আত্মার পরিশুদ্ধির মাধ্যমেই মহান আল্লাহ ও প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নৈকট্য অর্জন সম্ভব।’
’তাসাউফ আমাদের মাঝে মানবতা, উদারতা, নৈতিকতা, প্রেম, পরমতসহিষ্ণুতা ও সহানুভূতি জাগ্রত করে, যা আমাদেরকে সাধারণ মানুষ থেকে আলোকিত মানুষে রূপান্তর করে।’
বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দের অংশগ্রহণ
সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
ড. মুফতি সৈয়দ আনসারুল করিম আযহারী
আলহাজ মোহাম্মদ সালিম উদ্দিন (মহাসচিব, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, যুক্তরাষ্ট্র) আজমাইন আসরার মাইজভাণ্ডারী (পিএইচডি গবেষক, যুক্তরাষ্ট্র)সম্মেলনে নিউইয়র্কে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সুফি অনুসারীরা অংশ নেন।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের আয়োজন প্রবাসে নতুন প্রজন্মের কাছে ইসলামের উদার ও মানবিক রূপ তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।








