আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে ঋণমুক্ত ও অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নের দাবি জানাবে বাংলাদেশ। দেশের দরকষাকষির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও সুশীল সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছে সরকার।
শনিবার ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জনগণ-নেতৃত্বাধীন নীতি: কপ৩১ -এ বাংলাদেশের অবস্থান’ শীর্ষক এক জাতীয় সংলাপে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এই আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা ৩৩টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সংলাপে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন কাঠামোগত কনভেনশনের ৩১তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কপ৩১)-এর আগে সুশীল সমাজের বিভিন্ন দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
শামা ওবায়েদ বলেন, উন্নত দেশগুলোকে ঋণের পরিবর্তে অনুদানের মাধ্যমে তাদের জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে বাড়তি ঋণের বোঝা টানতে না হয়। তিনি অভিযোজন ও প্রশমনের প্রতি সমান গুরুত্ব দেওয়া, দরকষাকষিতে অধিক স্বচ্ছতা এবং অংশীজনদের মধ্যে জোরালো সমন্বয়েরও আহ্বান জানান।
তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর কাজ চলছে এবং এই প্রক্রিয়ায় তরুণ জলবায়ু কর্মীদেরও যুক্ত করা উচিত।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কপ৩১ -এ একটি ডেডিকেটেড পাট প্যাভিলিয়নের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের। এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন বিভাগের পরিচালক মির্জা শওকত আলী বলেন, শিল্পখাতের কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক দরকষাকষিতে বাংলাদেশের দাবি কার্যকরভাবে তুলে ধরার জন্য বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-উপাত্ত ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।
নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্টের (ন্যাকোম) নির্বাহী পরিচালক ড. এস এম মনজুরুল হান্নান খান জলবায়ু অর্থায়ন, নীল অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি), বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং শহুরে তাপপ্রবাহ নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনার আহ্বান জানান।
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং সংলাপের সঞ্চালক ফারাহ কবিরও অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা যেন জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ও জনপদের ঋণের বোঝা আরও বাড়িয়ে না দেয়।







