আগামী বছর ৩ লাখের বেশি পর্যটক টানার চেষ্টায় থাকা মালয়েশিয়া চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই বেড়িয়ে গেছেন ১ লাখ ৮৫ হাজারের মত বাংলাদেশি। দেশটির পর্যটন বিষয়ক উপমন্ত্রী খায়রুল ফিরদাউস আকবর খান কুয়ালালামপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য দিয়েছেন। ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার আয়োজনে বুধবাার ‘গ্লোবাল ট্র্যাভেল মিট ২০২৫’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পর্যটন ভিসা পেতে বাংলাদেশিদের এখন বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়া এখন চিকিৎসা,শিক্ষাসহ ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশি পর্যটক টানতে চাইছে। ২০১৯ সালে মালয়েশিয়ার জিডিপিতে পর্যটনের অবদান ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, যা টাকার অংকে দাঁড়ায় ১০২ বিলিয়ন রিঙ্গিত বা ৬ হাজার বিলিয়ন টাকা।
করোনা মহামারীতে দেশটিতে পর্যটক কমে গিয়েছিল ৭৮ শতাংশ। এরপর পর্যটনের আয় বাড়াতে আবার আঁটঘাট বেধে লাগে দেশটি। ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ার পর্যটন খাত জিডিপিতে অবদান রাখে ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ।
২০২৬ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করে ‘ভিজিট মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইনের আওতায় দেশটি চার কোটি ৭০ লাখ পর্যটক টানার পরিকল্পনায় রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কুয়ালালামপুরে আয়োজন করা হয়েছে ‘গ্লোবাল ট্র্যাভেল মিট’।
সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার পর্যটন বিষয়ক উপমন্ত্রী বলেন,‘২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় এসেছিলেন ৩ কোটি ৮০ লাখ বিদেশি পর্যটক, যা আগের বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি। আর ২০২৫ এর জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ৩ কোটি ৪৫ লাখ বিদেশি পর্যটক মালয়েশিয়া ভ্রমণ করে গেছেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি পর্যটক পেতে চায় মালয়েশিয়া। সে কারণে বাংলাদেশে ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার নিজস্ব ওভারসিজ অফিস রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ক্যাম্পেইনের আওতায় আমরা আরো বেশি পর্যটককে আমন্ত্রণ জানাতে প্রস্তুত।’
ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ মার্কেটের মার্কেটিং ম্যানেজার মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, ‘বাংলাদেশেরদের জন্য আমরা কুয়ালালামপুরের বাইরে বিভিন্ন ধরনের অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের প্যাকেজ রাখছি। যারা হাইকিং করতে চান বা পাহাড়ে উঠতে চান বা যারা গলফ পছন্দ করেন সবার জন্যই প্যাকেজ রয়েছে।’
‘কুয়ালালামপুরের বাইরে মেলাক্কা, লাংকাউই, পেনাং–এসব জায়গায় যেন মানুষ যেতে পারে, সে ব্যবস্থা আমরা করছি। মালয়েশিয়ায় অনেকগুলো গলফ কোর্স আছে, এটা এখন বৈশ্বিকভাবে একটি বুমিং ইন্ডাস্ট্রি। এছাড়া এখানে অনেকগুলো দ্বীপ রয়েছে, সেসব দিব দারুণ সব পর্যটনের সুযোগ রয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।
চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগগুলোকেও পর্যটকদের সামনে তুলে ধরার কথা জানিয়ে মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, ‘যেহেতু এখন বাংলাদেশিদের জন্য অপশন কমে গেছে, তাই আমরা মেডিকেল টুরিজম প্রমোট করছি। মালয়েশিয়া বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে।’
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন নিয়ে বাংলাদেশিদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি আছে। অনেককে মালয়েশিয়া ঢুকতে দেওয়া হয় না, ফেরত পাঠানো হয়, অনেকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হন। ‘টুরিজম মালয়েশিয়া’ এই বাধা পেরোনোর কী পরিকল্পনা করছে জানতে চাইলে মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, ‘যারা জেনুইন টুরিস্ট তারা কোন ঝামেলায় পড়ছেন না। তারা সুন্দরভাবেই মালয়েশিয়ায় গিয়ে ঘুরে ফিরে আসছেন।’
ঝামেলা এড়াতে ইমিগ্রেশনে যথাযথ তথ্য দিতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ইমিগ্রেশন ফর্ম ঠিকঠাকভাবে পূরণ করলে, সব তথ্য সঠিকভাবে দিলে কোনো ঝামেলা হচ্ছে না। কোনো অসত্য বা জাল ডকুমেন্ট দেওয়া যাবে না। আপনি কোথায় ঘুরতে যাচ্ছেন, কোন হোটেলে আপনার বুকিং এসব তথ্য যথাযথভাবে দিতে হবে।’
‘এখন মালয়েশিয়ার ই ভিসা দেওয়া হচ্ছে। কেউ ঠিকঠাকভাবে সব ডকুমেন্টসহ আবেদন করলে অল্প সময়েই ভিসা পেয়ে যাচ্ছেন।’
বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর কয়েক লাখ ভ্রমণকারী মালয়েশিয়ায় আসেন, যাদের অনেকে পরিবারভিত্তিক ভ্রমণ ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত ভ্রমণকে গুরুত্ব দেন।








