দেশের আটটি বিমানবন্দর, ছয়টি রেলস্টেশন ও চারটি আন্ত নগর ট্রেনে ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা চালু করেছে সরকার। এর মধ্যে শুধু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই স্থাপন করা হয়েছে প্রায় ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট। নতুন এই ব্যবস্থায় একসঙ্গে প্রায় ৩৭ হাজার যাত্রী বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করতে পারবেন।
রোববার দুপুর ২টায় এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘সবার জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট’ প্রতিশ্রুতির আলোকে বিমানবন্দরের সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্নতমানের ডিজিটাল সেবা দিচ্ছে। আশা করছি আমরা থার্ড টার্মিনালও দ্রুত উদ্বোধন করতে সক্ষম হবো এবং সেটা হবে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বলেন, একসঙ্গে ৩৭ হাজারের বেশি যাত্রী এই ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করতে সক্ষম হবে। এই উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানাই।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণকে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অংশ হিসেবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে বিনা মূল্যে ওয়াই-ফাই সেবা চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যাত্রীরা এখন পুরো বিমানবন্দর এলাকায়, এমনকি প্লেনে ওঠার আগ পর্যন্ত এবং কার পার্কিং এলাকাতেও ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে পারবেন। একই সুবিধা অভ্যন্তরীণ টার্মিনালেও চালু হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে দেশের আটটি বিমানবন্দর, ছয়টি রেলওয়ে স্টেশন এবং চারটি আন্ত নগর ট্রেনে ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা চালু করা হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে আরো বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ফকির মাহবুব আনাম আরো বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের মতো বিভিন্ন জনবান্ধব উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এবার ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবার মাধ্যমে আরেকটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলো।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে এই ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক বিস্তৃত থাকবে।
এর আওতায় রয়েছে— টার্মিনাল ১, টার্মিনাল ২, ডোমেস্টিক টার্মিনাল, ভিআইপি টার্মিনাল, ভিভিআইপি টার্মিনাল এবং কার পার্কিং এলাকা। এই বিস্তৃত কভারেজের ফলে বিমানবন্দরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অংশেই যাত্রীরা বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
সেবাটির জন্য আধুনিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো স্থাপন করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে— ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট, ৪৮ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ও ইথারনেট কেবল স্থাপন এবং ৩৭টি অ্যাক্সেস সুইচ। এই শক্তিশালী প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর মাধ্যমে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে দ্রুত ও স্থিতিশীল ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
আর প্রতিটি অ্যাক্সেস পয়েন্ট একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১৫০ জন ব্যবহারকারীকে সেবা দিতে সক্ষম। সে অনুযায়ী ২৫০টি লপি ব্যবহার করে একই সময়ে প্রায় ৩৭ হাজার ৫০০ জন ব্যবহারকারী ইন্টারনেট সংযোগ গ্রহণ করতে পারবেন। সম্পূর্ণ সিস্টেমটি সর্বোচ্চ ৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম গত ২৬ এপ্রিল শুরু হয়েছিল। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার যাত্রী এই সেবা ব্যবহার করেছেন এবং এ সময়ে মোট প্রায় ২ দশমিক ৩ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহৃত হয়েছে।








