বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই চ্যালেঞ্জ—জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক অস্থিরতা। এই সংকট মোকাবিলায় বিশ্বনেতৃত্বকে এক সুতোয় গাঁথতে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘দ্য রয়্যাল কনক্লেভ: ইউনাইটিং লিডারশিপ ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড পিস’।
সম্প্রতি রাজধানীর একটি অভিজাত ভেন্যুতে গ্লোবাল ল-থিংকার্স সোসাইটি আয়োজিত এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পরিবেশ চিন্তক, প্রভাবশালী নেতা ও সমাজ চিন্তকদের অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনটি কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি রূপান্তরমূলক বৈশ্বিক উদ্যোগের সূচনা করেছে, যা ঢাকার বুকে এক ‘ঐতিহাসিক’ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
‘ইউনাইটেড ফর র্আথ এন্ড পিচ(সউল) বা ‘আজ একটি ভালো কাজ, আগামীর সুন্দর পৃথিবী ’ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়। ‘আজ একটি ভালো কাজ, আগামীর সুন্দর পৃথিবী’ এই স্লোগান এই প্ল্যাটফর্মটি মূলত পরিবেশ সংরক্ষণ ও বিশ্বশান্তি রক্ষায় ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে সরকার পর্যন্ত সবাইকে একটি সাধারণ লক্ষ্যে নিয়ে আসার কাজ করবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পৃথিবী কেমন হবে তা নির্ভর করছে আজ আমরা কী করছি তার ওপর।’ তিনি নৈতিক নেতৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন,‘ জলবায়ু রক্ষা এবং শান্তি বজায় রাখা একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।’
প্রতিষ্ঠাতা আহসানুল আলম জন বলেন, ‘এই উদ্যোগটি একটি স্বপ্ন থেকে শুরু হয়েছিল দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার স্বপ্ন। আজ এটি একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মানুষ একত্রিত হয়ে স্থায়ী প্রভাব সৃষ্টি করছে।’
গার্ডিয়ান রাওমান স্মিতা বলেন, ‘নেতৃত্ব মানে পরিবর্তন। এই কনক্লেভ এবং Souli উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা একটি বৈশ্বিক সম্প্রদায় গড়ে তুলছি, যা দায়িত্ব, সহমর্মিতা এবং কর্মের উপর ভিত্তি করে দাঁড়াবে।’
অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে আশরাফ জালাল খান মনন-কে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনিত করা হয়। চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হিসেবে সম্মুখসারিতে দাঁড়িয়ে আছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের জন্য তাত্ত্বিক বিষয় নয়, বরং প্রতিদিনের নিষ্ঠুর বাস্তবতা। এই প্রতিকূলতাই আমাদের সহনশীল হতে শিখিয়েছে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করব, বাংলাদেশ শুধু জলবায়ু ঝুঁকির শিকার নয়, বরং আমরা উদ্ভাবন ও ঐক্যের মাধ্যমে বিশ্বকে পথ দেখানোর নেতৃত্ব দেব। এটি শুধু একটি পদ নয়, মানবতার প্রতি আমাদের পবিত্র দায়বদ্ধতা।’
প্রতিষ্ঠাতা আহসানুল আলম জন তার বক্তব্যে বলেন, ‘একটি দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার যে স্বপ্ন নিয়ে এই যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত। অন্যদিকে, অনুষ্ঠানের সূচনাকারী গার্ডিয়ান রাওমান স্মিতা বলেন, নেতৃত্ব মানেই হলো ইতিবাচক পরিবর্তন। সউলি-এর মাধ্যমে সেই পরিবর্তনের একটি আন্তর্জাতিক পরিবার গড়ে তোলা হচ্ছে।’
শক্তিশালী নেতৃত্বের নতুন অধ্যায়:
এবারের কনক্লেভের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল নেতৃত্বের পরিবর্তন ও নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা। অনুষ্ঠানে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে আশরাফ জালাল খান মনন-কে সংগঠনের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বরণ করে নেওয়া হয়। নতুন এই নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনটি জলবায়ু কর্মসূচি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরও জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সম্মেলনে বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম সুসংহত করতে একটি শক্তিশালী নেতৃত্ব কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে ইউরোপ মহাদেশীয় নেতা বিসি নিকোলা শিমচোভা, এশিয়া মহাদেশীয় নেতা বাসু গৌতম, বেলজিয়াম কান্ট্রি লিডার ন্যান্ডার কোভেন্টস এবং মেন্টর হিসেবে সামি দোহা নিযুক্ত হয়েছেন। এছাড়া গুডউইল লিডার হিসেবে মিস আর্থ জামিলাতুন নাইমা ও এস.এ. ওয়ালিদ আন্তর্জাতিক বিষয়ক কর্মকর্তা, ইব্রাহিম এস. এম. কিশকো, পরিচালক (প্রোগ্রাম, গবেষণা ও ফান্ডরেইজিং) হিসেবে আলতুমুশ সাদ।
রয়্যাল কনক্লেভ ২০২৬-এর এই আয়োজন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে—সীমানা ছাড়িয়ে যখন নেতৃত্ব একত্রিত হয়, তখন যে কোনো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। শপথ গ্রহণ ও বিশেষ সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।








